kalerkantho


ফেসবুক স্ট্যাটাসে নতুন ঘর পেলেন গৃহহীন খাতুন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১৫:৫৫



ফেসবুক স্ট্যাটাসে নতুন ঘর পেলেন গৃহহীন খাতুন

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার উত্তর পাড়া এলাকার হতদরিদ্র নারী মোছা. খাতুন। স্বামী মারা যাওয়ার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এই নারী তার একমাত্র ছেলে খোকনকে নিয়ে জনৈক খয়রুল ইসলামের জমিতে একটি ভাঙা ঘরে কোনরকমে দিনাতিপাত করে আসছিলেন। ছিলো না তাদের রান্নাঘর বা শৌচকাজের ঘরও। ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে করুণভাবে দিন কাটালেও এতোদিনে তাদের ভাগ্যে জোটেনি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা।

খাতুনের অসহায় জীবনযাপনের চিত্র দেখে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সমাজসেবী মুহাম্মদ রনি মিয়াজী তাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরির জন্যে সহযোগীতা চেয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে অপর দুই স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. রাহাত হাসান রনি ও নাজমুস সাকিব মুন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। আর এতেই সাড়া মেলে।  

অসহায় গৃহহীন খাতুনের কষ্টের কথা ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারেন দেবীগঞ্জ সাব রেজিস্টার দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম সরকার ও সরকারি কর্মকতা মো. শাহিদুর রহমান লাবু। তারা নগদ অর্থ দিয়ে সহযোগিতা শুরু করেন। এরপর খাতুনের বাড়িতে যান দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতিক এস বি সাত্তার ও উপজেলার চেয়ারম্যান আলহাজ হাসনাৎ জামান চৌধুরী জর্জ। তারা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে নগদ আর্থিক অনুদান দেন। স্থানীয় শেখ ব্রাদার্সের চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ মো. আলমগীর হোসেন ঢেউটিন ও কংক্রিট পিলার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক টিউবওয়েল ও স্যানেটারি এবং দন্ডপাল ইউপি চেয়ারম্যান মো. জামেদুল ইসলাম খাট ও আলনা প্রদান করেন। 

সমাজের আরো সামর্থ্যবানরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করতে থাকেন। সব মিলিয়ে খাতুনের ঘর তৈরির ভালোই বন্দোবস্ত হয়ে যায়। এবার ঘর নির্মাণের পালা। সেখানেও ভূমিকা রাখলেন তরুণ সমাজসেবী রনি। পাশে থেকে সার্বক্ষণিক তদারকী করেন তিনি। রনির নেতৃত্বে ঘর নির্মাণে সেচ্ছাশ্রম দিতে এগিয়ে আসেন এলাকার কিশোর তরুণরা। ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে গতকাল শেষ হলো ঘর তৈরির কাজ। আজ খাতুন ও তার সন্তান নতুন ঘরে বসবাস শুরু করবেন। 

গতকাল রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ভাবতেও পারিনি এত সাড়া পাবো। মূলত সকলের ভালোবাসায় গৃহহীন অসহায় খাতুন আজ পেলো একটি বাড়ি। এখন খাতুনের ১৫ বছর বয়সী উপার্জনক্ষম ছেলেটির স্থায়ী কোনো কাজের ব্যবস্থা করে দিতে সকলের সহযোগীতা চাই’।

লেখক: আতাউর রহমান কাবুল, সাংবাদিক  

(এই বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়)



মন্তব্য