kalerkantho


দুই টাকার আনন্দ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৭:৪৫



দুই টাকার আনন্দ!

দেখলে এই ছবিটিকে খুবই সাধারণ একটি ছবি মনে হবে। তবে এই ছবিটির পেছনের একটি সুন্দর ইতিহাস আছে। সেই কারণে এই ছবিটি আমার কাছে মহামূল্যবান। ঘটনাটা খুলে বলি।

গত ২৬ জুলাই বিকেলের ঘটনা। অফিসে যাবার পথে মগবাজারের সিগনালে আমার গাড়ি দাঁড়ানো। সাংবাদিকের চোখ ত আর বসে থাকে না। তাই জানালা দিয়ে চারদিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছি। হঠাৎ চোখ পড়ল ছবির ছোট্ট এই মেয়েটির দিকে। সে এক ফেরিওয়ালার কাছে আচারের মত কি যেন একটা জিনিস কাতর কণ্ঠে বারবার চাচ্ছে। দোকানদারও বারবার ধমক দিয়ে তাকে সরিয়ে দিচ্ছে। বকাও দিচ্ছে। এভাবেই চলছিল।

সিগনাল তখনো ছাড়েনি। দৃশ্যটা দেখে মনটা বিষন্ন হয়ে গেল। মনে হল আমার ছোট্ট মেয়ে স্পর্শই যেন ওই দোকানদারের কাছে কাকুতি মিনতি করে কিছু চাচ্ছে। তাই নেমে গেলাম গাড়ি থেকে। গাড়ির ড্রাইভার জাকির আমার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছে কীভাবে যেন। সে বলল, স্যার আপনি কি ওই মেয়েটির কাছে যাচ্ছেন? আমিও বিষয়টি খেয়াল করেছি। আমি হেসে বললাম, হ্যাঁ।

ফেরিওলার পাশে দাঁড়িয়ে মেয়েটিকে ডাকলাম। সে রাজ্যের সংকোচ নিয়ে কাছে এল। তখন দোকানদারকে বললাম, কি কিনতে চায় মেয়েটি? ওকে সেটি দিন। দাম আমিই দেব।

দোকানদার তখন মেয়েটিকে তার পছন্দের জিনিস নিতে বলল। মেয়েটি তখন ঝুড়ি থেকে তার পছন্দের আচারের মত ছোট্ট কিসের যেন একটি প্যাকেট নিল। আমি বললাম, আরো নাও। কিন্তু সে আর একটি প্যাকেটও নিল না। এটি নিয়েই সে দ্রুত একটু দূরে গিয়েই প্যাকেট খুলে তার এক সহপাঠীর সাথে দাঁড়িয়ে খেতে লাগল। তার খাওয়া দেখে মনে হল মেয়েটি জগতের সবচে সুস্বাদু আর মূল্যবান একটি খাবার খাচ্ছে। আমি তৃপ্তি নিয়ে এক পলক দেখে চোখ জুড়িয়ে নিলাম। চোখ আমার ততক্ষণে তৃপ্তির অশ্রুতে ঝাপসা।

দোকানদারের দিকে ফিরে তাকালাম। বললাম, ওটার দাম কত? 
দাম শুনে আমি এতটাই বিস্মিত হলাম যে, কয়েক সেকেন্ডের জন্য থ হয়ে গেলাম!
মাত্র দুই টাকা!

সিগনাল উঠে গেছে। দ্রুত গিয়ে গাড়িতে গিয়ে বসলাম। গাড়ি চলতে শুরু করল। চলতে শুরু করল আমার ভাবনার গাড়িও। জগতে এখন দুই টাকার কোনো মূল্য নেই বললেই চলে। একসময় ফুটা কড়ি ছিল, এখন ছেড়া দুইটাকা। সেই দুই টাকাতেও যে এখনো নির্মল আনন্দ কেনা যায়— এ এক বিস্ময়কর ঘটনা বটে!

লুৎফর রহমান হিমেল এর ফেসবুক থেকে

(পাঠকের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন।)



মন্তব্য