kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

ওর কি পাসপোর্ট আছে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ জুলাই, ২০১৮ ১১:২২



ওর কি পাসপোর্ট আছে?

প্রতীকী ছবি

ঢাকার পাঁচ-তারকা হোটেল, বড় শপিং মলের সামনে কিছু ভিক্ষুক দেখা যায়। এদের অনেকের কোলে দুধের শিশু থাকে। সামনে দাঁড়ালে এই বাচ্চাদের দেখে হয়তো আপনি আবেগী হয়ে পড়েন। টাকা-পয়সাও দেন। এটা আমাদের প্রতিদিনকার ছবি। ভিক্ষুকের কোলের শিশুটি নিজের অজান্তে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘শিশু শ্রমিক’ হিসেবে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও কি একই চিত্র? তিনটি ঘটনার কথা বলছি।

এক.
মক্কা নগরীতে হারাম মসজিদের সামনে মধ্যরাত থেকে কিছু শিশু সারি বেঁধে রাস্তায় বসে সাহায্যের জন্য ‘ফি সাবিলিল্লাহ’ বলে চিৎকার করতে থাকে। দেখলে অবাক হবেন কৃষ্ণবর্ণ বাচ্চাগুলোর হাত অর্ধেকেরও বেশি নেই। কুৎসিতভাবে হাতের ভগ্নাংশ নড়ছে। গায়ের রং দেখে মনে হতে পারে এরা সুদান কিংবা নাইজেরিয়ার। খুব ইচ্ছা করবে একটু সাহায্য করি। তবে নিয়মিত দর্শকরা একটু সরেস। তারা জামা হাতড়ে ঠিকই বের করে ফেলে নিখুঁত হাত। ধরা পড়লেই শিশুগুলো দৌড়ে পালায়।

দুই.
মদিনার অদূরে কুবা মসজিদ থেকে বিকেলে নামাজ পড়ে বের হচ্ছি। হঠাৎ একটি বাচ্চা মেয়ে হাত ধরে টানছে। কী বলছে বুঝতে পারছিলাম না। আমার হাতে আতরের শিশি গুঁজে দিতে চেষ্টা করছিল। আমার আতর লাগবে না, কিন্তু বাচ্চাটা নাছোড়বান্দা। ফাঁকা রাস্তার অপরপাশে তার মা আরেকটা বাচ্চা নিয়ে বসে আছে। তার চোখের ভাষায় বুঝলাম আতরটা আমাকে নিতেই হবে। শিশিটা নিয়ে সামনে পা বাড়ালাম। একি, মেয়েটা আমার হাত ছাড়ছেই না। এতক্ষণে বুঝলাম মেয়েটা পণ্য বিক্রির জন্য আমার পিছু নিয়েছে।

তিন.
মদিনার বিভিন্ন হোটেলের সামনে দেখি কিছু বাচ্চা ওজন মেশিন নিয়ে বসে আছে। আট থেকে বারো বছর বয়সী হবে। কেউ কি ওজন মাপায় এখানে? কত পায় এরা সারা দিনে?

‘কিরে, তোর দেশ কোথায়? পাকিস্তান, নাকি ইন্ডিয়া?’

‘বার্মা’।

‘তুই রোহিঙ্গা?’

‘হ্যাঁ।’

শিশুশ্রম, পড়ালেখা এসব ছাপিয়ে অন্য চিন্তা আমায় পেয়ে বসে। সাক্ষাৎ জাহান্নাম থেকে এই শিশুটা কিভাবে পালিয়েছে? বাংলাদেশে এসেছিল ও? আচ্ছা, ওর কি পাসপোর্ট আছে? সবুজ একটা পাসপোর্ট? পড়ালেখা, নিরাপত্তা, সভ্যতা থেকে ছিটকে পড়া শিশুটা কি একসময় অপরাধে জড়িয়ে পড়তে পারে? তখন কি এই সবুজ পাসপোর্টটা সামনে চলে আসবে?

পৃথিবীর সব শিশুর জন্য শিশু অধিকার, চিকিৎসা, নিরাপদ শৈশব শব্দগুলো খাটে না বোধহয়।

—আহাদ আদনান, মাতুয়াইল, ঢাকা। 

(এই বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়)



মন্তব্য