kalerkantho


বুয়েট পড়ুয়া ছেলের বাবা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ জুন, ২০১৮ ১৬:৪৬



বুয়েট পড়ুয়া ছেলের বাবা

প্রতীকী ছবি

আজকে বুয়েটে গিয়েছিলাম। বাসায় ফেরার জন্য পলাশী থেকে রিকশা ঠিক করলাম। ভাড়া ৮০ টাকা চাইল। সাধারণত ১০০ টাকা চায়। একজন কম চাইল। রিকশায় উঠে গেলাম।

বাসার কাছাকাছি যখন আসলাম তখন রিকশাওয়ালা আমাকে বলে, প্রতিদিন কি এই খান থেকে ক্লাসে যাওয়া আসা করেন?

আমি বলি না। পাস করেছি তিন বছর হলো।

রিকশাওয়ালা-  ও আচ্ছা! এখন কি করেন?

আমি - চাকরি করি।

রিকশাওয়ালা- ও আচ্ছা! আমার ছেলেও বুয়েটে পড়ে। এখন ফাইনাল ইয়ারে।

(কি শুনলাম নিজের কানকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হল প্রথমে! আবার কনফার্ম করার জন্য জিজ্ঞাসা করলাম)

- আপনার ছেলে বুয়েটে পড়ে!

রিকশাওয়ালা- হ্যা!

আমি তখনও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তাই একটু ডিটেইলস জানতে চাইলাম।

- কোন ডিপার্টমেন্ট?

রিকশাওয়ালা- সিভিলে পড়ে

যেহেতু ফাইলান টার্মে বলছে  তাই এইচএসসিটা জিজ্ঞাসা করলাম।

- ও এইচএসসি দিয়েছে কবে?

দেখলাম রিকশাওয়ালা ঠিক ঠিক উত্তর দিল! 

এইচএসসির সন শুনে আমি নির্বাক! তার ছেলে যে আসলেই বুয়েটিয়ান! কিছুক্ষণ অবাক বিস্ময়ে চুপচাপ বসে থাকলাম আর একটু পর জিজ্ঞাসা করলাম!

- আপনার কয় ছেলে মেয়ে?

- ২ ছেলে ১ মেয়ে। মেয়েটা ইডেনে প্রাণি বিজ্ঞানে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। ছোট ছেলেটা ক্লাস টেন এ বুয়েট স্কুলে পড়ে।

আলাপ করতে করতে বাসার সামনে চলে এলাম।

রিকশা থেকে নেমে বললাম,

- আপনি আগে কি করতেন?

- পাঞ্জাবির কারখানা ছিল। টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

 তারপর বলল, মানুষ জন বলে, তোমার ছেলে তো বুয়েটে পরে, তোমার রিকশা চালানোর কি দরকার। কিন্তু আমা টা তো আমি বুঝি। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ছেলে মেয়ের লেখা পড়ার খরচ চালাতে হয়। ছেলেটা টিউশনি করে নিজের টা নিজে চালায়।

আরো অনেকক্ষণ কথা বললাম আমরা। তিনি আমাকে বললেন কিভাবে ছেলেকে পড়াচ্ছেন, ছেলে ক্লাস ৫ এ বৃত্তি পেয়েছে, এসএসসিতে এ প্লাস তারপর এইসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। তেজগাও, কুয়েট, বুয়েটসহ আরো অনেক জায়গায় ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিল। সব জায়গায় চান্স পেয়েছে সে। যখন দেখলো ছেলে বুয়েটে টিকেছে, তখন ছেলেকে চোখ বন্ধ করে বুয়েটে ভর্তি হয়ে যেতে বললাম।

আমি বললাম,  আপনি আসেন আমার সাথে ভাত খাবেন। বাসায় আম্মু আব্বু নাই এখন। আমিই আপনাকে ভাত রেঁধে খাওয়াব। 
আপনি একজন গর্বিত পিতা! আপনি রিকশা সাইড করে আমার বাসায় আসেন। তারপর উনি বললেন, না বাবা থাক! তোমার আম্মু আব্বু যেহেতু নাই আজ লাগবে না।

আমি বললাম, আচ্ছা আপনি একটু দাঁড়ান। আমি আসছি বাসার ভেতর থেকে। মানিব্যাগে যা ছিলো পুরোটাই দিয়ে দিলাম উনাকে। 
বললাম, এইটা আপনি রাখেন। বেশি দিন না, আর মাত্র ৬ মাস! তারপর থেকে আপনার আর কষ্ট করা লাগবে না। আপনার ছেলে বুয়েটে পড়ে। সামনে আপনার সুদিন। 

পাশে দাঁড়ানো আরেক যাত্রী আমার শেষের কথা গুলি শুনলেন এবং উনার রিকশা করে যেতে যেতে অবাক হয়ে কি কি যেন জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন।

আমাদের এ দেশটা বড়ই অদ্ভুত!  গুণীজনরা রিকশা চালিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করে, ছেলে মেয়েদের লেখা পড়ার খরচ যোগায়। আর ধনিক মুর্খরা দেশ চালায়, অর্থের পাহাড় গড়ে, ছেলে মেয়েদের বিদেশে পড়ায়।

আশিক জেএসআর এর ফেসবুক থেকে

(পাঠকের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন।)



মন্তব্য