kalerkantho


'ভিতরে ন্যাট আছে' ও একটি ধর্মপ্রাণ সমাজের কনট্রাডিকশন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ মে, ২০১৮ ২০:২৫



'ভিতরে ন্যাট আছে' ও একটি ধর্মপ্রাণ সমাজের কনট্রাডিকশন

আগে যখন আমাদের সিএনজি অটোরিক্সাগুলি খোলামেলা ছিল যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে দিনদুপুরেই মাঝে মাঝেই আবিস্কার করতো তার দুপাশে দুই দুর্বৃত্ত উঠে বসে গেছে যারা পরে ছুরি-পিস্তলের মুখে সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে নেমে যেত। যাবার আগে আবার বিনা কারণেই শখের বশে একটা ছুরির দাগ বসিয়ে যেত। পরে বুদ্ধি করে সিএনজিগুলির দুপাশে বেড়া লাগিয়ে দেয়া হল।

দুর্বৃত্তরা পাল্টা বুদ্ধি করে জ্যাম বা সিগনালের সময় সিএনজির পিছনে উঠে গিয়ে উপরের দিক থেকে যাত্রীর ঠিক মাথা বরাবর অটোরিক্সার প্লাস্টিকের রুফটা ছুরি দিয়ে দ্বিখণ্ডিত করে যাত্রীর হাতে/পকেটে থাকা মোবাইল অচমকা বা ভয় দেখিয়ে নিয়ে যেত। এ থেকে রক্ষা পেতে এখন অধিকাংশ সিএনজির ছাদেই ভিতর থেকে ধাতব নেট লাগিয়ে দেয়া হয়েছে যেন ছুরি দিয়ে তা কাটতে না পারে। ''ভেতরে ন্যাট আছে'' লিখে দিয়ে সেই চোরদেরও জানিয়ে দেয়া হচ্ছে ভাই অযথা ছুরি চালিয়ে শুধুশুধুই আমার সিএনজিটা নষ্ট করো না- ভিতরে ন্যাট আছে।

অথচ দুনিয়ার অন্যকোন দেশে অটোরিক্সায় কোনো বেড়া নাই- রুফ -এ নেট বা জালিকার তো প্রশ্নই উঠে না। বিদেশে রাতবিরাতেও আপনি মোবাইল হাতে খোলা অটোরিক্সায় ঘুরতে পারবেন, ঢাকায় সেটা দিনদুপুরেও সম্ভব না। প্রসঙ্গতঃ দেশের বাইরের এক শহরের অটোরিক্সায় উঠে আমাদের এক অধ্যাপকের কিশোর ছেলে তাজ্জব হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল, আমাদের সিএনজিগুলির মতো এগুলিতে দুপাশে আটকে রাখার বেড়া নাই কেন? জন্ম থেকে খাঁচায় বন্দী পাখি যেমন আকাশে ঊড়ে বেড়ানো পাখিকে অসুস্থ মনে করে, বদ্ধ ও অন্ধত্ব দেখে দেখে বড় হওয়া মানুষ বা জাতি যেমন মুক্তপ্রাণ মুক্তমনকেই অস্বাভাবিক ভাবতে শিখে- বেড়াবন্ধী সিএনজি দেখে দেখে অভ্যস্ত কিশোরের কাছে বেড়াহীন খোলামেলা অটোরিক্সাকেই অস্বাভাবিক মনে হচ্ছিল।

ছবির সিএনজির পেছনের লেখাগুলোর দিকে তাকালে আমাদের স্বদেশি ও বিদেশি ভাষায় সর্বশক্তিমান ভক্তি মূর্ত হয়ে উঠে। আবার ''ভিতরে ন্যাট আছে'' নোটিশটি যেন আমাদের অসৎ ও ডাকাত মানসিকতার একটা দলিল। সিএনজিটির এক দেয়াল লেখনীতেই যেন আমাদের ধর্মমনস্কতা ও দুর্বৃত্তরায়নতার যুগপৎ চিত্র অঙ্কিত হয়ে গেছে।

মনে কি প্রশ্ন জাগেনা আমাদেরকে শুদ্ধ করতে আমাদের এই ধর্মমনস্কতার শক্তি তাহলে কতটুকু?

- আমিনুল ইসলামের ফেসবুক থেকে

(পাঠকের কথা বিভাগে প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এজন্য কোনোভাবেই দায়ী নন।)



মন্তব্য