kalerkantho


জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য: নির্ভীক সাংবাদিক হায়দার আলী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মে, ২০১৮ ১৪:১৮



জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য: নির্ভীক সাংবাদিক হায়দার আলী

আজ ২৩ মে, নির্ভীক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাংবাদিক হায়দার আলীর ৪২তম জন্মদিন। ওনার সঙ্গে প্রথম পরিচয় ‘বিরল ভালোবাসা’র মাধ্যমে। হাসমত আলী নামের একজন ভ্যানচালক তাঁর জমানো টাকা দিয়ে বঙ্গবন্ধুর মেয়ে এতিম শেখ হাসিনার জন্য কেনেন একখণ্ড জমি। শেষ বয়সে কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়েও এতিম শেখ হাসিনার নামে ক্রয় করা জমি বিক্রি করেননি তিনি। একটা সময় না ফেরার দেশে চলে যান ভালোবাসার অদম্য নায়ক হাসমত আলী। স্বামীর সেই জমির দলিলটি যত্ন করে রেখে দেন রমিজা। 
 
কিন্তু তিনিও পারেন না এটি শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিতে। ততদিনে শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী। ফলে স্বামীর অসমাপ্ত কাজটি করে ওঠা আরও কঠিন হয়ে পড়ে রমিজার কাছে। তাছাড়া আস্তে আস্তে নিজের জীবিকা নির্বাহ করার একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠে ভিক্ষাবৃত্তি। আর এই বিরল ঘটনাটি যে সাংবাদিক কঠোর পরিশ্রম আর মেধা খাটিয়ে দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেছিলেন, তিনিই আমাদের প্রিয় নির্ভীক সাংবাদিক হায়দার আলী। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কালের কণ্ঠের এই রির্পোটটি পড়ে অভিভূত হয়েছিলেন। পরে এই সাংবাদিকের মাধ্যমেই আবার মৃত্যুমুখে পতিত রমিজার চিকিৎসাসহ বসবাসের ঘর করে দেন তিনি। ওই রির্পোটটি আজও আমাকে দারুণভাবে ভাবায়। একজন সংবাদকর্মী কতটা অনুসন্ধানী ও আদর্শবান হলে এমন রির্পোট লিখতে পারেন! 
 
গুণী এই সাংবাদিক হায়দার আলীকে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে পুরস্কৃত করেছেন এবং দিয়েছেন মহামূল্যবান বিশেষ সাক্ষাৎকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সাংবাদিককে রাষ্ট্রীয় সফরে নিয়েছিন তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। পেশাগত কাজের জন্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় অর্জন করেন ইউনেস্কো বাংলাদেশ-জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার। প্রয়াত কবি শামসুর রাহমানের হাত ধরে ২০০২ সালের দিকে সাংবাদিকতা জগতে প্রবেশ। শুরুটা প্রথম আলো’তে।  দৈনিক কালের কণ্ঠের মতো সমকালেও অর্জন করেন সেরা প্রতিবেদকের পুরস্কার। বর্তমানে এই সাংবাদিক কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত আছেন। পালন করছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশন (RAC) এর সভাপতির দায়িত্ব। মুজিব আর্দশের এই সাংবাদিক ঢাকার শ্যামলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মো.শামসুদ্দিন মিয়া এবং মা সালমা বেগম। উচ্চশিক্ষা লাভ করেন মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। 
 
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নেশায় ছুটেছেন বহু দেশে। ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, জাপান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন, বেলজিয়াম ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চষে বেড়িয়েছেন তিনি। মা সালমা বেগম, দুই ছেলে ঋদ্ধি ও সাফল্য এবং স্ত্রী রহিমা আক্তারকে নিয়ে বর্তমানে তিনি শ্যামলীর বাসায় বসবাস করছেন। প্রিয় এই সাংবাদিকের জন্মদিনে রইলো অনেক অনেক প্রীতি আর শুভেচ্ছা। 
 
রাজীবুল হাসান, গণমাধ্যমকর্মী 
 
(প্রকাশিত লেখা ও মন্তব্যের দায় একান্তই সংশ্লিষ্ট লেখক বা মন্তব্যকারীর, কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ এর জন্যে কোনোভাবেই দায়ী নন)

মন্তব্য