kalerkantho


ছুটিতে বাড়ি আসা ক্যাপ্টেন ঝাঁপিয়ে পড়লেন মুক্তিযুদ্ধে, তবু তিনি নন...

আসিফ ইকবাল কাজল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ এপ্রিল, ২০১৮ ২০:২৪



ছুটিতে বাড়ি আসা ক্যাপ্টেন ঝাঁপিয়ে পড়লেন মুক্তিযুদ্ধে, তবু তিনি নন...

মেশিনের ছাচে ফেলে রাজাকারদের মুক্তিযোদ্ধা বানানোর খবরটি আর চটকদার নয়। জনগণ বেখবর নয় অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা বানানোর কাহিনীর বিষয়েও। কেবল সেলুকাস! বড়ই বিচিত্র লাগছে মুক্তিযুদ্ধকালীন একজন কোম্পানি কমান্ডারের ভাতা ও সনদ না পাওয়ার বিষয়টি। 

ঝিনাইদহে এই মুক্তিযোদ্ধা হরিণাকুন্ডু উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধকালীন তিনি একটি কোম্পানি কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন। যার নেতৃত্বে হরিণাকুন্ডু ও আলমডাঙ্গার শত শত মুক্তিযোদ্ধা রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে এখন ভাতা পাচ্ছেন। রয়েছে তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ। দেশ স্বাধীনের ৪৭ বছর পর এসে তার মেয়ে শামিম আরা খাতুন পিতার ভাতা ও সনদ দাবী করে আবেদন জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। 

হরিণাকুন্ডুর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে ক্যাপ্টেন হিসেবে কর্মরত ছিলেন আব্দুর রহমান। ছুটিতে বাড়ি আসার পর যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। কর্মস্থলে যোগদান না করে তিনি দেশকে শত্রুর কবল থেকে মুক্ত করতে চলে যান ভারতের বানপুর ট্রেনিং ক্যাম্পে। পরবর্তীতে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা ও ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার যুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্ব পান তিনি। 

তিন শতাধিক মুক্তিযোদ্ধাকে একত্রিত করে মাগুরার আড়পাড়া, আলমডাঙ্গা, হরিণাকুন্ডুর শিতলী ও ভালকী এলাকায় শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন কোম্পানি কমান্ডার আব্দুর রহমান। বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে শত্রু মুক্ত করেন ওইসব এলাকা। অথচ তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধ করা অপরাপর বীর মুক্তিযোদ্ধারা সনদ ও ভাতা পাচ্ছেন, কেবল বাদ রইছে তাদের কমান্ডার ও তার পরিবার। 

২০০৫ সালের বেসামরিক গেজেট ও লাল মুক্তিবার্তায় নাম থাকলেও সেই বীর যুদ্ধকালীন কমান্ডার আব্দুর রহমানের ভাগ্যে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও ভাতা জোটেনি আজও। শারীরিক অসুস্থতার সূত্রে এই মুক্তিযোদ্ধা ১৯৯৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পর তার মেয়ে শামিম আরা খাতুন পিতার মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও ভাতার আবেদন করেন। 

মেয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক যাচাইপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু আজও তার পরিবার ভাতা বা সনদ কোনোটাই পায়নি। হরিণাকুন্ডু উপজেলার সাবেক কমান্ডার মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আব্দুর রহমান কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে ময়দানে যুদ্ধ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করেন। তার নেতৃত্বে যুদ্ধ করা আমিসহ হরিণাকুন্ডুর ২০৪ জন মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও নিয়মিত ভাতা পাচ্ছি। তবে তখন তিনি সম্ভ্রান্ত ও সচ্ছল পরিবারের মানুষ হওয়ায় হয়তো তিনি ভাতা ও সনদের জন্য আবেদন করেননি। 

হরিণাকুন্ডু উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, রণাঙ্গনের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিবাহিত হলেও আজও সনদ বা ভাতা না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখ জনক।

আসিফ ইকবাল কাজল: ঝিনাইদহবাসী সাংবাদিক



মন্তব্য