kalerkantho


'হ্যালো দাদা! আমি পূর্ণিমা বলছি'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৭:৪১



'হ্যালো দাদা! আমি পূর্ণিমা বলছি'

'হ্যালো দাদা! আমি পূর্ণিমা বলছি।' ফোনের অন্য প্রান্ত থেকে নারী কণ্ঠে এই বাক্যটা শুনে খানিকটা থতমত খেলাম। এত দরদ দিয়ে দাদা সম্বোধন করল যে আমি তার পরিচয় জিজ্ঞেস করতেও ইতস্তত বোধ করছিলাম। কিছুক্ষণ কথা বলার পর বুঝতে পারলাম এটা সেই পূর্ণিমা, যাকে নিয়ে ছাত্র জীবনে বহু স্লোগান-বক্তব্য দিয়েছি। চোখের সামনে ভেসে উঠল ২০০১ নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি জামাতের কর্মীদের পাশবিকতার শিকার এক নারীর মুখ। ধর্ষণের সময় যার অসহায় মা করুন আর্তি জানিয়েছিলেন- আমার মেয়েটা ছোট। বাবারা এক এক করে আস।

সে নিষ্ঠুর দৃশ্যের ফ্লাশ ব্যাক কাটিয়ে জিজ্ঞেস করলাম- দিদি তুমি আমাকে ফোন করেছ নিশ্চয় কোন বিষয় আছে। উনি বললেন- আমি আপনার সাথে দেখা করতে চাই। আরো যা শুনলাম তাতে বিস্মত হতে থাকলাম। ভাবছিলাম, সরকারের ৭ বছরেও পূর্নিমারা কীভাবে মূল্যায়নহীন থাকে?

সবকিছু শুনে বললাম- একটা রিপোর্ট করি। এবার আরো বিস্মিত হবার পালা। সে বলে না দাদা- আপনি শুধু পিএম অফিসের কাউকে বলেন, আমাদের সমস্যাগুলো দেখতে। এত চড়াই উতরাইয়ের পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি পূর্ণিমা ও তার মার শ্রদ্ধা আনুগত্যে একবিন্দু চিড় ধরেনি। রাজনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে কত নেতা, এমপি, মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা হয়। তাদের না পাওয়ার বেদনা আর হা-হুতাশ শুনি। কিন্তু এত নিষ্ঠুর আর ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাওয়ার পরও শেখ হাসিনার প্রতি পূর্ণিমা ও তার মায়ের শ্রদ্ধা-অনুগত্যে সেদিন খানিকটা ধাক্কা খেলাম বৈকি। 

এরপর প্রায় বছর পেরিয়ে গেছে। আমি পূর্ণিমার জন্য কিছু করতে পারিনি। আজ তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম পূর্ণিমাকে পারসোনাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। খানিকটা স্বস্তি পাচ্ছি। কৃতজ্ঞতা তারানা আপার প্রতি। 

পূর্ণিমারা দিতে জানে, তাদের আত্মত্যাগে আওয়ামী লীগ টিকে থাকে। তারা হাজার কোটি টাকা লুটপাটের স্বপ্ন দেখে না। তারা দুবেলা খেয়ে-পড়ে নিরাপদে বাঁচতে চায়। আমার কাছে তাদের পাশে দাঁড়ানোই রাজনীতি। বাকি সব বোগাস!!!

- সাংবাদিক তৈমুর ফারুক তুষারের ফেসবুক থেকে।



মন্তব্য