kalerkantho


সফল অভিবাসনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা (পর্ব-২)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:৪২



সফল অভিবাসনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা (পর্ব-২)

আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত ‘বিশ্ব অভিবাসী প্রতিবেদন ২০১৮’-তে উল্লেখ করা হয়েছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭৫ লাখ। সে হিসাবে বাংলাদেশি অভিবাসীরা বিশ্বে পঞ্চম শীর্ষ স্থানে আছে। প্রতিবছর অভিবাসী হতে অসংখ্য মানুষ স্বপ্ন নিয়ে ছোটেন। অনেকেই সফল হন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। এটাকে ঠিক দুর্ভাগ্য বলতে চাই না। এটা অভিবাসন প্রক্রিয়া দক্ষভাবে চালিয়ে নিতে আপনার ব্যর্থতার ফলাফল। এখানে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সফল অভিবাসনে জরুরি দক্ষতার বিষয়ে কিছু লিখছি। কোনো নির্দিষ্ট দেশের কথা বলছি না, পৃথিবীর যে দেশেই যেতে চান না কেন, এই দক্ষতাগুলো মৌলিক যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে।  

অভিবাসনের যোগ্যতা মূল্যায়ন ও আয়ত্ত করার বিষয়গুলো নিয়ে প্রথম পর্বে লিখেছিলাম, এবার আমরা আলোচনা করবো পৃথিবীর কোন দেশগুলো বেশি বেশি অভিবাসীদের উৎসাহিত করছে অথবা মানুষ পৃথিবীর কোন কোন দেশে বেশি অভিবাসিত হচ্ছে। অভিবাসনের জন্য সবচেয়ে ভালো দেশগুলো ক্রমানুসারে হল-

১. সুইডেন
২. কানাডা
৩. সুইজারল্যান্ড
৪. অস্ট্রেলিয়া
৫. জার্মানি
৬. নরওয়ে
৭. আমেরিকা
৮. নেদারল্যান্ডস
৯. ফিনল্যান্ড 
১০. ডেনমার্ক
১১. লুক্সেমবার্গ
১২. অস্ট্রিয়া
১৩. নিউজিল্যান্ড
১৪. ফ্রান্স
১৫. আরব আমিরাত

আরো পড়ুন সফল অভিবাসনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা (পর্ব-১)

আপনি হয়তো অভিবাসনের জন্য এই ১৫টি দেশের মধ্যে অনেক দেশের কথা চিন্তাও করেননি, অথচ এগুলোই হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম সারির ১৫ টি দেশ যেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ অভিবাসিত হচ্ছে।

মজার বিষয় হলো, এই ১৫ টি দেশের অফিসিয়াল ভাষা কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন ১৫টি নয়। অর্থাৎ আপনি যদি এর কোন একটি ভাষা আয়ত্ত করতে পারেন তাহলে আপনার অভিবাসনের জন্য বিভিন্ন দেশের সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। তাহলে আসুন দেখা যাক কিভাবে? আপনি যদি ইংরেজীতে দক্ষ হোন তাহলে আপনার জন্য কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, নিউজিল্যান্ড এর অভিবাসন সহজ হয়ে যাবে। আপনি যদি ফ্রেঞ্চ ভাষায় দক্ষ হোন তাহলে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড এবং কানাডার দরজা খোলা। 

এখানে জেনে রাখা ভাল, সুইজারল্যান্ডে ৪টি অফিসিয়াল ভাষা- জার্মান, ফ্রেঞ্চ, ইতালিয়ান এবং রোমান। এ ছাড়া কানাডাতে ২টি অফিসিয়াল ভাষা- ইংরেজী ও ফ্রেঞ্চ। আপনি যদি জার্মান ভাষায় দক্ষ হোন তাহলে আপনার জন্য জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, নরওয়ে (নরওয়ের অফিসিয়াল ভাষা নরওয়েন হলেও ওটা অনেকটা দক্ষিণ জার্মান ভাষার সাথে মিল আছে) এবং অস্ট্রিয়ার (অস্ট্রিয়ার অফিসিয়াল ভাষা অস্ট্রিয়ান হলেও ওটা অস্ট্রিয়ান জার্মান ভাষা হিসেবে পরিচিত) দরজা খোলা। এ ছাড়াও আপনি যদি ডেনিস ভাষায় দক্ষ হোন তাহলে ডেনমার্ক এবং নরওয়ের দরজা আপনার জন্য খোলা।
 
এভাবে যেকোনো একটি ভাষার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আপনার অভিবাসনের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যেতে পারেন। আর এইসব ভাষা শেখার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগ ছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যেখান থেকে আপনি ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।

যেহেতু এগুলো উন্নত দেশ সেহেতু এদের প্রত্যেক দেশেই অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থাকে যেখানে অভিবাসনের সকল নিয়ম কানুন পরিষ্কারভাবে লিখা থাকে। আপনি যে দেশগুলোতে অভিবাসনের জন্য পরিকল্পনা করছেন বা করবেন খুব ভালোভাবে নিয়ম-কানুন পড়ে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারেন। এ ছাড়াও এর আগে কেউ একই দেশে গিয়েছেন তার সাথে যোগাযোগ করতে পারেন বিষয়গুলোকে পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য। সহজেই রঙিন বিজ্ঞাপন দেখে যেখানে সেখানে টাকা দেবেন না। যদিও বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হোন তাহলে আগে সেই প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন আছে কিনা এবং পূর্ববর্তী কাউকে সহযোগিতা করে সফল হয়েছে কিনা এগুলো ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে এগোবেন।
 
একটি কথা মনে রাখা ভালো, আপনার যোগ্যতা ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান টাকার বিনিময়ে কখনই আপনাকে অভিবাসিত করতে পারবে না। তাই নির্দিষ্ট দেশের জন্য মনস্থির করলে প্রথমেই খোঁজ করুন আপনার যোগ্যতার সাথে তাদের প্রয়োজনীয়তার সামঞ্জস্যতা আছে কি না। (চলবে)

লেখক : মাইনুল বাশার, কানাডা


মন্তব্য