kalerkantho


সফল অভিবাসনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা (পর্ব-১)

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২০:৪৬



সফল অভিবাসনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা (পর্ব-১)

আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত ‘বিশ্ব অভিবাসী প্রতিবেদন ২০১৮’-তে উল্লেখ করা হয়েছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭৫ লাখ। সে হিসাবে বাংলাদেশি অভিবাসীরা বিশ্বে পঞ্চম শীর্ষ স্থানে আছে। প্রতিবছর অভিবাসী হতে অসংখ্য মানুষ স্বপ্ন নিয়ে ছোটেন। অনেকেই সফল হন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। এটাকে ঠিক দুর্ভাগ্য বলতে চাই না। এটা অভিবাসন প্রক্রিয়া দক্ষভাবে চালিয়ে নিতে আপনার ব্যর্থতার ফলাফল। এখানে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সফল অভিবাসনে জরুরি দক্ষতার বিষয়ে কিছু লিখছি। কোনো নির্দিষ্ট দেশের কথা বলছি না, পৃথিবীর যে দেশেই যেতে চান না কেন, এই দক্ষতাগুলো মৌলিক যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। 

স্বপ্ন তা নয় যা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে, স্বপ্ন হচ্ছে তা-ই যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।
- এপি জে আব্দুল কালাম

ছোটবেলায় ক্রিকেট খেলার খুব শখ ছিল। শচীন টেন্ডুলকার 'এমআরএফ' ব্যাট দিয়ে খেলতেন। তখন মনে হতো- ওই ব্র্যান্ডের ব্যাটটা পেলেই আমিও ওর মত সেরা ব্যাটসম্যান হতে পারবো। অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে ব্যাটটা কিনেছিলাম ঠিকই, কিন্তু শচীনের মত তো দূরে থাক, তার ধারেকাছেও যেতে পারিনি। সময়ের সাথে সাথে মানুষের চিন্তা-ভাবনা, স্বপ্ন সব বদলাতে থাকে। কিন্তু যখন স্বপ্নটা মনের গহীনে ধারণ করবেন এবং তা বাস্তবায়নে একাগ্রচিত্তে কাজ করে যাবেন, স্বপ্নই তখন আপনাতেই ধরা দেবে। শচীন বাবার মৃত্যুর কথা শুনেও খেলার মাঠ ছেড়ে যাননি। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, বাবার মৃত্যুকে স্মরণীয় করতে আরেকটি শতকের ইনিংস খেলবেন। আর তিনি তা করেও দেখিয়েছেন। বাবাকে সেই শতকটি উৎসর্গ করেছেন। তার ঈর্ষণীয় সফলতার পেছনে রয়েছে পরিকল্পনা, একাগ্রতা আর নিজেকে সফল করার অদম্য মানসিকতা। তবে স্বপ্নের বীজটা আপনি যত তাড়াতাড়ি বপন করতে পারবেন, সফলতা ঠিক ততটাই দ্রুত ধরা দেবে।

অভিবাসনের ইতিহাস হাজার হাজার বছরের পুরনো। একবিংশ শতাব্দিতে অভিবাসন শব্দটিকে তাই আর নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। আবার এই সময়টাতে সবকিছুই যেন হাতের মুঠোয়। তাই প্রতিযোগিতার মাত্রাটাও সবচেয়ে বেশি। আর এই প্রতিযোগিতায় নিজেকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখতে আপনার প্রয়োজন স্বপ্ন দেখার শক্তি। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর অনেক মানুষই উন্নত দেশে অভিবাসনের চেষ্টা চালান। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত ‘বিশ্ব অভিবাসী প্রতিবেদন ২০১৮’-তে উল্লেখ করা হয়েছে,  দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ৭৫ লাখ। সে হিসাবে বাংলাদেশি অভিবাসীরা বিশ্বে পঞ্চম শীর্ষ স্থানে আছে। আর তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশে প্রতিবছর যে রেমিট্যান্স আসে, তা বিশ্বে রেমিট্যান্সের হিসাবে নবম সর্বোচ্চ। প্রতিবছর অভিবাসী হতে অসংখ্য মানুষ স্বপ্ন নিয়ে ছোটেন। অনেকেই সফল হন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। এটাকে ঠিক দুর্ভাগ্য বলতে চাই না। এটা অভিবাসন প্রক্রিয়া দক্ষভাবে চালিয়ে নিতে আপনার ব্যর্থতার ফলাফল। এখানে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সফল অভিবাসনে জরুরি দক্ষতার বিষয়ে কিছু লিখছি। কোনো নির্দিষ্ট দেশের কথা বলছি না, পৃথিবীর যে দেশেই যেতে চান না কেন, এই দক্ষতাগুলো মৌলিক যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। 

আপনি কোন দেশে অভিবাসিত হতে চান সেটা নির্ভর করবে আপনার যোগ্যতা এবং ওই দেশে আপনার কাছ থেকে কী চা্‌ইছে তার ওপর। শুধু এতটুকু মনে রাখবেন, আপনার অনেক খুঁটিনাটি যোগ্যতা তাদের কাছে অমূল্য হতে পারে। আবার আপনার দৃষ্টিতে নিজের অনেক যোগ্যতাই তাদের কাছে মূল্যবান নয়। যেহেতু আমরা আজকে অভিবাসন নিয়ে কথা বলছি, তাই অভিবাসনের যোগ্যতাগুলোকে মূল্যায়ন করার চেষ্টা করবো আর সেগুলোকে কীভাবে আয়ত্ত করা যায় সেটা বোঝার চেষ্টা করবো।

যেহেতু ভাষা হল অন্যের সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম, তাই ভাষাকেই অভিবাসনের প্রথম উপকরণ বলা যায়। তা ছাড়া অভিবাসনের তালিকায় যে দেশগুলোর কথা সবার প্রথমে মাথায় আসে, তার বেশিরভাগেরই ইংরেজি প্রথম এবং প্রধান ভাষা। অভিবাসন ছাড়াও যারা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চান তাদের ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা সবার আগে গণ্য করা হবে। ইন্টারনেটের যুগে ইংরেজি জানার প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়েছে। তাই আগে ইংরেজির ওপর জোর দিন।

দ্বিতীয়ত, আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা। আপনি যে দেশে যেতে চান সেই দেশে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা তাদের দেশের কতটুকু সমতুল্য সেটা ওরা বিচার করবে। তাই শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক জরুরি। অধিকাংশ দেশেই যোগ্যতায় উৎরে যেতে মাস্টার্স পাসের প্রয়োজন হয়। তবে কোনো কোনো দেশে স্নাতক হলেও সেটা মূল্যায়ন করে। তবে অন্যান্য যোগ্যতা মাস্টার্সের অভাব পূরণ করবে।

তৃতীয়ত, আপনার কাজের অভিজ্ঞতা। আপনি কোন খাতে কাজ করেছেন, কত বছর কাজ করেছেন- তা যোগ্যতা প্রমাণের আরেক মাধ্যম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ৪ বছর বা তারও বেশি সময়ের যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু পেশার ক্ষেত্রে নূন্যতম ২ বছরের অভিজ্ঞতাতেই আপনি পার পেয়ে যেতে পারেন। যেমন - কারিগরী পেশা। আপনি যদি নিজ দেশ থেকেই যে দেশে যেতে চান, সেই দেশের কোনো কম্পানিতে চাকরির সুযোগ পেয়ে যান, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। অভিবাসন প্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে।

চতুর্থত, আপনার বয়স। আপনার বয়স যত কম হবে আপনার যোগ্যতা তত বেশি থাকবে। তাই শুরুতেই বলেছিলাম যত তাড়াতাড়ি স্বপ্নের বীজ বপন করতে পারবেন, সফলতা তত তাড়াতাড়ি ধরা দেবে। তবে আপনার চাকরির অভিজ্ঞতা বেশি থাকলে বয়সের বিষয়টা অনেক সময় শিথিলভাবে ভেবে দেখা হয়।

পঞ্চমত, আপনার জীবন সঙ্গী/সঙ্গিনীর ভাষাগত যোগ্যতা, পড়াশোনা, চাকরির অভিজ্ঞতা, বয়স ইত্যাদি বিষয়গুলোকেও বিশেষ বিবেচনায় আনা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলোকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পরিশেষে, আপনার কোনো রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় যদি সেই দেশে থাকেন, তবে তা আপনার জন্যে বিশেষ সুবিধা বয়ে আনবে। (চলবে)

লেখক : মাইনুল বাশার, কানাডা



মন্তব্য