kalerkantho


বাবা হলেন আমাদের বট গাছ

মঞ্জুরে এ এলাহী   

১৮ জুন, ২০১৭ ১৯:৫৭



বাবা হলেন আমাদের বট গাছ

বাবা দিবসে বাবাকে শুভেচ্ছা জানানোর মতো অতটা আবেগী আমি কোনো কালেই ছিলাম না। বাবার প্রতি কতটা ভালোবাসা কাজ করতো সেটাও নির্ণয় করতে পারিনি কখনো।

আমার বাবার প্রতি যতটা না ভালোবাসা কাজ করতো তার চেয়েও অনেক বেশি কাজ করতো শ্রদ্ধা।  

বাবাকে ভয় পেতাম প্রচণ্ড। কক্ষনো তাঁর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সাহস পাইনি, স্পর্ধাও দেখাইনি। সে যা ই বলতো তাই ছিলো আইন আমাদের ভাই-বোনদের কাছে। সবারই অনেক মজার স্মৃতি থাকে তাদের বাবাকে নিয়ে। যেমন- বাবার কাঁধে চড়ে মেলায় যাওয়া, বাবার আঙ্গুল ধরে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ইত্যাদি। আমার এসব কিছুই নেই। হয়তোবা এমন স্মৃতি আমারো ছিলো যেগুলো মনেনেই। ওই যে বললাম, কতটা ভালোবাসা যে ছিলো বাবার প্রতি সেটা কখনো নির্ণয় করতে পারিনি। আর বাবারই বা কতটা ভালোবাসা ছিলো সেটাও বুঝিনি কখনো। তবে কিছু স্মৃতি এখনো জ্বলজ্বল করে চোখের সামনে। যে স্মৃতিগুলো শুধুই বাবাময়।

আব্বু, বাবা, বাজান আরো কত রকম ভাবেই না সম্বোধন করা যায় নিজের জন্মদাতাকে। কিন্তু আমার খুব ইচ্ছে হয় খুব করে তৃষা মিটিয়ে ডাকি, আব্বা! ও আব্বা! আব্বা। মনে হয় এ ডাকের ভেতরেই আছে দুনিয়ার সকল শান্তি। বাবার প্রতি সাধারণত মেয়েদের ভালোবাসা বেশি থাকে। ছেলেদের সে তুলনায় কম থাকে। ছেলেরা কোন কিছুই বাবাকে বলতে সাহস পায় না। তাদের মনের কথা বা তাদের চাওয়া পাওয়া কোন কিছুই বাবাকে বলতে সাহস হয়ে উঠে না। বাবাকে আমরা ছেলেরা সাধারনত ভয় পাই।

বাবাদের কে নিয়ে কখনো গল্প লেখা যায় না যেটা লেখা যায় সেটা হলো বাস্তব অভিজ্ঞতা। সব ছেলেদের মায়েদের প্রতি ভালোবাসা বেশি কিন্তু আমার বেলায় ভিন্ন, আমার বাবার প্রতি ভালোবাসা,  শ্রদ্ধা, ভয়, সম্মান বেশি কাজ করে, সেটা কেন? বা কোন কারনে আমি জানিনা, হয়তো তার উত্তর কেবলমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।  

আমি হাটা শিখেছি বাবার হাত ধরে, সাইকেল চালানো তিনি শিখিয়েছেন, আবার মোটর সাইকেলও তিনি চালানো শিখিয়েছেন এক কথায় বাবা ছাড়া আমার কোন অস্তিত্ব নেই এই দুনিয়ায়।

আমি একটা ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতাম, ছেলেটির অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ খারাপ থাকার কারনে অষ্টম শ্রেণিরর পর আর পড়শোনা হয়নি। ঢাকায় যান কর্মের সন্ধানে, গত রমজানের ঈদের পরের দিন আমার সাথে এ ছেলেটির বাবার অনেক কথা হলো লোকটি কথা গুলো বলতে গিয়ে নিজেও কাঁদলেন, আমাকেও কাঁদালেন, বললেন তিনি যে পাঞ্জাবীটা পড়ে আছেন সেটা তার ছেলে কিনে দিয়েছে, ওর মায়ের জন্যও শাড়ী এনেছে ওর ছোট ভাইয়ের জন্য জামা এনেছে।

কথা গুলো শুনলাম আর আমি একা একাই লজ্জিত হলাম, আমি মাস্টার্সে অধ্যায়নরত, বয়স প্রায় ২৫, একজন অঘোষিত বেকার,বাবাকে পাঞ্জাবী তো দুরের কথা এক হালী কমলা এনেও বলতে পারিনা আব্বা এটা আপনার জন্য এনেছি।

বাবা যার নেই তিনি কেবল বুঝেন বাবার মর্ম। বাবা হলেন আমাদের বট গাছ। সারা জীবন ছায়া দিয়ে যাবেন কিন্তু কেনদিন বিনিময়ের আশা করেন না।  

হে মহান রাব্বুল আলামীন, আপনি আমাদের বাবাদের জান্নাত নসীব করুন এবং আমরা যেন তাদের চক্ষু শীতল কারী হতে পারি সেই তৌফিক আমাদের কে দিন।

লেখক : শিক্ষার্থী


মন্তব্য