kalerkantho


কাঁদছে 'উই উইল সারভাইভ'!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:৩৮



কাঁদছে 'উই উইল সারভাইভ'!

যশোরের শিল্পরসিক মানুষদের প্রাণের জায়গার নাম কী- জিজ্ঞেস করলেই একবাক্যে সবাই বলবেন, চারুপীঠ।  

শিশুদের ছবি আঁকা শেখার সর্বজনজ্ঞাত এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে যশোরের গর্ব, অহংকারও বটে। কারণ, এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শিল্পী ভাস্কর মাহবুব জামাল শামিম। যার ঐকান্তিক আগ্রহ আর নিরলস প্রচেষ্ঠায় দেশে সর্বপ্রথম পহেলা বৈশাখে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়। পরবর্তীতে যা রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য স্থানে ব্যাপক জাঁকজমকভাবে পালন হয়ে আসছে! 

গতবছর এই মঙ্গল শোভাযাত্রা ইউনেসকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। ইন্টার গভর্নমেন্টাল কমিটি অন ইনট্যানজিবল হেরিটেজের ১১তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যাহোক, বলছিলাম শিল্পী মাহবুব জামালের কথা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে পড়াশুনার পাট চুকিয়ে যশোরে ফিরে আসেন। গড়ে তোলেন চারুপীঠ। গড়ে তোলেন শিল্পকলা চর্চার পবিত্র স্থান।

চারুপীঠের সামনে পায়ে হাঁটা পথের ধারে মাহবুব জামাল একটি ভাস্কর্য তৈরি করেন, নাম দেন- ‘উই উইল সারভাইভ’!

২০১৪ সালে এই ভাস্কর্যটির রেপ্লিকা জাতীয় জাদুঘরে প্রদর্শন করা হয়। পরে সেটি যায় ফ্রান্সে; ব্রিটিশ বিয়েনাল আর্ট এক্সিবিশনে।

এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ছয়জন শিল্পী আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন, তারমধ্যে মাহবুব জামাল অন্যতম। ছয়মাসের সেই অনুষ্ঠানে তিনি সেখানে গেলেও প্রিয় চারুপীঠের মায়ায় মাত্র দেড়মাসের মাথায় দেশে ফিরে আসেন।

এই ভাস্কর্যটি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় জাতীয় জাদুঘরের প্রদর্শনীতে, ফ্রান্সেও।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশন একলাখ টাকা দিয়ে ভাস্কর্যের একটি রেপ্লিকা রেখে দিয়েছে।

যশোর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানের পাশ দিয়ে একটি ড্রেন নির্মাণ করেন; সম্প্রতি, সেই ড্রেনের পাশ দিয়ে রাস্তা বানানো হবে বিধায় তা ভেঙে দিয়েছেন। তাছাড়া, চারুপীঠের সামনে পৌরসভার ভাঙা গাড়িগুলো রেখে দিয়েছেন তারা।

বস্তুত, সেই চারুপীঠ আজ একটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে কাঁদছে - 'উই উইল সারভাইভ' !!

- তৌহিদ জামানের ফেসবুক থেকে।


মন্তব্য