kalerkantho


‘মি টু’ ঝড়

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



‘মি টু’ ঝড়

সেলিম খান

তার পরও পাশে তাঁরা

পরিচালক নন্দিতা দাসের বাবা চিত্রশিল্পী যতিন দাসের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। তার পরও ‘মি টু’ আন্দোলনে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে যাবেন নন্দিতা। আগে বলিউডের ১১ নারী পরিচালক এক খোলা চিঠিতে যৌন হয়ানির বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছিলেন। এবার আলাদা করে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কলম ধরেছেন এই পরিচালক, ‘মি টু আন্দোলনের একজন শক্তিশালী সমর্থক হিসেবে সবাইকে জানাতে চাই, নিজের বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকার পরও এই আন্দোলনকে আগের মতোই সমর্থন দিয়ে যাব। এখন সময় শুধু শুনে যাওয়ার, যাতে নারীরা মুখ খুলতে নিরাপদ বোধ করে।’

একইভাবে এই আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছেন সেলিম খানও, যাঁর ছেলে সালমান খানের বিরুদ্ধেও উঠছে হয়রানির অভিযোগ। টুইটার পোস্টে সেলিম বলেন, ‘তাদের মুখে একটাই রব—এত দেরিতে কেন মুখ খুলছ? কখনো না হওয়ার চেয়ে দেরিতে হওয়া ভালো। মেয়েরা, এর মধ্যেই তোমরা ফল পেয়ে গেছ। তোমরা মানুষের পূর্ণ সমর্থন পেয়ে গেছ।’ এ ছাড়া অভিযুক্ত পরিচালকদের কড়া সমালোচনা করেন সেলিম।

বাদ পড়লেন যাঁরা

যৌন হয়রানির বিষয়টিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে বলিউড। যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তাঁকেই কাজ থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজন প্রভাবশারী ট্যালেন্ট ম্যানেজার অনির্বাণ দাশ। চার নারী তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তোলার পর ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি কাওয়া তাঁকে বরখাস্ত করে। দিন কয়েক আগে দৈনিক মিডডে অনির্বাণের বিরুদ্ধে কয়েকজন মডেল ও থিয়েটারকর্মীর অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন করে।

যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরি খুইয়েছেন যশরাজ ফিল্মসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ক্রিয়েটিভ প্রধান অনিশ পাতিলও। এক বিবৃতিতে ভারতের অন্যতম বৃহত্ এই প্রযোজনা সংস্থা জানায়, ‘সব সময়ই যৌন হয়রানির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলি। কখনো এর ব্যত্যয় হবে না।’

সমর্থনে মহেশ, লতা, অনুভব

‘মি টু’ আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন মহেশ ভাট। এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন, সমস্যার মূল অনেক গভীরে, ‘আমরা যা হতে চাই তার চেয়ে অনেক অনেক দূরে আছি। আমাদের আত্মা ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে।’

কিংবদন্তির শিল্পী লতা মুঙ্গেশকর প্রথমবারের মতো কথা বলেছেন ‘মি টু’ ইস্যুতে—‘আমার সঙ্গে এমন করে কেউ পার পেত না। উচিত শিক্ষা দিতাম।’ এদিকে পরিচালক সাজিদ খানের চরিত্রের দোষ সম্পর্কে আগে থেকেই জানতেন বলেছেন তাঁর সঙ্গে ‘হে বেবি’তে কাজ করা দিয়া মির্জা। তবে সাজিদ যে এত নিচে নামতে পারেন সেটা ভাবতেও পারেননি অভিনেত্রী।

আরেক পরিচালক সৌমিক সেনের বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ করেছিলেন এক নারী। এক বিবৃতিতে সেই নারীর প্রতি নিজের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন সৌমিক পরিচালিত ‘গুলাব গ্যাং’-এর প্রযোজক অনুভব সিনহা।

নন্দিতা দাস



মন্তব্য