kalerkantho


অন্নপূর্ণা দেবী আর নেই

রংবেরং ডেস্ক   

১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



অন্নপূর্ণা দেবী আর নেই

অন্নপূর্ণা দেবী [১৯২৭-২০১৮]

চিরবিদায় নিলেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রবাদপ্রতিম শিল্পী অন্নপূর্ণা দেবী। শনিবার ভোর রাতে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।

‘অন্নপূর্ণা ফাউন্ডেশন’-এ মুখপাত্র জানান, মাইহার ঘরানার এই শিল্পী বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ভারতীয় সংগীতাঙ্গনের অনেকেই। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক টুইটে অন্নপূর্ণার পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। অন্নপূর্ণার আসল নাম রওশন আরা বেগম। ১৯২৭ সালের ২৩ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের মাইহারে জন্ম নেন। তাঁর বাবা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। সরোদবাদক আলী আকবর খাঁ তাঁর ভাই। সেতারবাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর তাঁর সাবেক স্বামী।

বাবার কাছেই সংগীতে হাতেখড়ি। কৈশোরেই সুরবাহার বাজনায় অসামান্য পারদর্শিতা অর্জন করেন। মেয়ের বাদনের প্রশংসায় আলাউদ্দিন খাঁ একবার বলেছিলেন, ‘আমার পরে যদি কেউ ভালো বাজাতে জানে, সে আমার মেয়ে।’ অন্নপূর্ণা নিজেও সংগীতে দীক্ষা দিয়েছেন বহু শিল্পীকে। তালিকায় আছেন পণ্ডিত চৌরাসিয়া, পণ্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, পণ্ডিত অমিত ভট্টাচার্য, নিত্যানন্দ হলদিপুর, সেতারবাদক রুশিকুমার পাণ্ডের মতো সুর সাধকরা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বাবার ছাত্র রবি শঙ্করকে বিয়ে করে রওশন আরা বেগম থেকে হয়ে যান অন্নপূর্ণা দেবী। বিয়ের এক দশক পর তাঁদের সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু, আরো এক দশক পর হয় বিচ্ছেদ। তাঁদের একমাত্র ছেলে শুভেন্দ্র শঙ্কর ৫০ বছর বয়সেই মারা যান। রবির সঙ্গে বিচ্ছেদের ২০ বছর পর রুশিকুমার পাণ্ডেকে বিয়ে করেন অন্নপূর্ণা। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৭ সালে তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব ‘পদ্মভূষণ’ প্রদান করে ভারত সরকার।



মন্তব্য