kalerkantho

সরেজমিন শ্রীপুর

ভোটকেন্দ্রের খাঁ খাঁ অবস্থা!

শাহীন আকন্দ, গাজীপুর   

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘড়ির কাঁটায় সময় তখন দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট। বরমী ইউনিয়নের বরকুল ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেল, খাঁ খাঁ করছে পুরো মাঠ। মাঠঘেঁষা সড়কের পশ্চিম পাশে ছোট একটি মুদি দোকানে বসা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. বাবুল। তাঁর সঙ্গে আড্ডায় মশগুল দুই যুবক। ওই এএসআইয়ের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ভোটকেন্দ্র ইশারা করে বলেন, ‘ভোটার নাই তো, তাই এখানে বসে একটু গল্প করছি।’

কেন্দ্রের ভেতর গিয়ে এক নম্বর নারী ভোটকক্ষে উঁকি দিতেই চোখে পড়ে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার অনুকূল চন্দ্র মোবাইল ফোনে গেমস খেলছেন। এ প্রতিবেদককে দেখে তাত্ক্ষণিক মোবাইল ফোন পকেটে পুরে হেসে ফেলেন। নিজে থেকেই জবাব দেন, ‘ভোটার নাই, অলস বসে আছি, তাই একটু...।’ ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ মাসউদ জানান, এখানে মোট ভোটার দুই হাজার ৮০৪। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৪২৯ ও নারী এক হাজার ৩৭৫ জন ভোটার। ওই সময় পর্যন্ত কাস্টিং হয় ৪০৫ ভোট। প্রিসাইডিং অফিসার দাবি করেন, দুপুরের পর হয়তো ভোটার আসতে পারে। দুপুর ২টা ১৩ মিনিট। কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে গিয়েও দেখা যায় পুরো মাঠ ফাঁকা। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের সদস্যরা মাঠের উত্তর পাশে গল্পে মেতে রয়েছে। ভোটকেন্দ্রের বারান্দায় দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন প্রিসাইডিং অফিসার এমারত হোসেন। ওই সময় প্রতিটি ভোটকক্ষে সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের কেউ ঝিমুচ্ছিলেন, কেউবা পায়চারি করছিলেন।

এ অবস্থার কারণ জানতে চাইলে প্রিসাইডিং অফিসার এমারত হোসেন জানান, সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে ভোটারই আসছে না। তিনি জানান, কেন্দ্রের মোট ভোটার দুই হাজার ৫২৫। এর মধ্যে পুরুষ এক হাজার ২৪৯ ও নারী এক হাজার ২৭৬ জন ভোটার। তখন পর্যন্ত কাস্টিং হয় ৬৩০ ভোট।

দুপুর ২টা ৩৭ মিনিট। কাওরাইদ কে. এন. উচ্চ বিদ্যালয়-১ (দক্ষিণ পাশের ভবন) ও ২ (পশ্চিম পাশের ভবন) ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মাত্র তিনজন ভোটার পাওয়া গেছে। সেখানে দুটি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছয় হাজার ৯২২। তার মধ্যে পুরুষ তিন হাজার ৪৮০ ও নারী তিন হাজার ৪৪২ জন। তখন পর্যন্ত কাস্টিং ভোট ছিল মাত্র এক হাজার ৮০০। ভোটার উপস্থিতি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাওরাইদ কে. এন. উচ্চ বিদ্যালয়-২ (পুরুষ) এর প্রিসাইডিং অফিসার আল আমিন বলেন, ‘শুরুতে ভোটার উপস্থিতি এত কম দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, প্রায় সব কেন্দ্রেই একই অবস্থা।’

এরপর আরো কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে কোথাও ভোটারশূন্য, কোথাও-বা ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে দু-চারজন। এমনই চিত্র ছিল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। অবশ্য, প্রিসাইডিং অফিসাররা দাবি করেছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে পারে।

তৃতীয় ধাপের এ নির্বাচনে প্রচারণার শুরুতে উত্তেজনা ছিল। দু-একটি ছোট সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও আতঙ্ক ছড়ায়নি। এর পরও সাধারণ ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসনও।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সুলতানা এলিন বলেন, ‘কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ তবে তিনি বলেন, ‘ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম হয়েছে।’

মন্তব্য