kalerkantho

বন্ধুকে হত্যা করে রক্তমাখা শরীরে থানায় গিয়ে দায় স্বীকার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাওনা টাকার বিরোধ মীমাংসার কথা বলে বন্ধুকে ফোনে বাড়িতে ডেকে নেয় আরেক বন্ধু। সেখানের একটি ঘরে কয়েক ঘন্টা ধরে কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে বন্ধুকে দা দিয়ে কুপিয়ে ফেলে পালিয়ে যায় বন্ধু। এ ঘটনার  প্রায় এক ঘন্টা পর থানায় গিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আত্মসর্ম্পন করে খুনি বন্ধু। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইলে।

ঘটনাস্থল নান্দাইল পৌরসভার সাত নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউগড়া মহল্লার উসমান উদ্দিনের বাড়িতে। স্থানীয় সুত্র জানায়, ওই বাড়ির একটি টিনসেড ঘরে গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বন্ধু শাহাব উদ্দিন (৩২) দা দিয়ে উপর্যপুরি কুপিয়ে জখম করে মো. সোহেল মিয়া (৩০) নামে তারই এক বন্ধুকে। পরে এলাকার লোকজনের খবরে পুলিশ গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে আহত সোহেলকে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই সন্ধ্যার পর তাঁর মৃত্যু হয়।

জানা যায়, নান্দাইল পৌর সদরের ৫ নং ওয়ার্ডের চারআনি পাড়া মহল্লার আবুল কাশেমের পুত্র মুরগি ব্যবসায়ী মো. সোহেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় ঝাউগড়া মহল্লার মো. উসমান উদ্দিনের পুত্র মো. শাহাব উদ্দিনের। গত প্রায় ১০ বছর ধরে এই বন্ধুত্বের সর্ম্পক। এই সুবাধে শাহাব উদ্দিন প্রায়ই সোহেলের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো। এক পর্যায়ে বন্ধু সোহেলের বোনের সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে শাহাবের। এই অবস্থায় গত দুই মাস আগে সোহেলের বোন মালয়েশিয়ায় চলে যায়। এতে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে শাহাব উদ্দিন। বন্ধুর বোনকে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে শাহাব উদ্দিন দাবি করে বন্ধুর বোন তার (শাহাব উদ্দিন) কয়েক লাখ টাকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় পালিয়েছে। এই টাকা দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকদিন ধরে বন্ধু সোহেলকে চাপ দিয়ে আসছিল শাহাব। পুলিশ হেফাজতে থাকা শাহাব উদ্দিন জানান, ঘটনাটি মীমাংসা করতেই গতকাল শনিবার বন্ধু সোহেলকে নিজ বাড়িতে ডেকে নেয়। এ সময় বিছানায় বসেই দুইজনের মধ্যে কথাবার্তা চলছিল। এক সময় তিনি সোহেলের কাছে দাবি করে তার বোনকে মালয়েশিয়া থেকে ফিরিয়ে আনতে অন্যথায় তার পাওনা টাকা ফেরত দিতে। এতে সোহেল রাজী না হলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়। পরে এলাকার লোকজনের ধাওয়া খেয়ে রক্তমাখা জামা কাপড়ে নিয়ে থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় ওই টিনসেড ঘরটির মেঝে ভেসে রয়েছে রক্তে, শরীরে ছিন্নভিন্ন অংশ। পুলিশ ওই বাড়ির চারপাশ ঘিরে রেখেছে। মহল্লার লোকজন সূত্রে জানা যায় অভিযুক্ত শাহাব উদ্দিনের জুয়া খেলার অভ্যাস রয়েছে। এলাকায় চিহ্নিত জুয়াড়ি হিসেবে পরিচিত সে।

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিয়া জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তাঁর দলবল নিয়ে পুরো এলাকা ঘেরাও করে অভিযুক্ত শাহাব উদ্দিনকে ধরার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে খবর পান শাহাব উদ্দিন বন্ধুকে হত্যার দায় স্বীকার করে নিজেই থানায় এসে আত্মসর্ম্পন করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

 

মন্তব্য