kalerkantho

বরিশাল বিভাগ

প্রাথমিকে চার হাজার শিক্ষক সংকট!

বরিশাল অফিস   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশাল নগরীর চকবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষকের পদ আছে ছয়টি। সম্প্রতি স্কুলটিতে গিয়ে দেখা যায়, দুজন শিক্ষক পড়াচ্ছেন। বাকি চারজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন মাতৃৃকালীন ছুুটিতে আছেন, আর দুজন প্রশিক্ষণে। ফলে স্কুলটির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে বাকেরগঞ্জ উপজেলার শেখ রাসেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এখানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচজন শিক্ষকের পদ থাকলেও আছেন মাত্র দুজন। তাঁদের মধ্যে একজন উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রেষণে এসেছেন।

শিক্ষক সংকটের এ চিত্র পুরো বিভাগজুড়েই। এ বিভাগে নতুন ও পুরনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছয় হাজার ১৭৫টি। এর মধ্যে পুরনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদের সংখ্যা তিন হাজার ৩০৫টি। এর মধ্যে কর্মরত দুই হাজার ৮৯৩ জন, আর শূন্য আছে ৪১২টি পদ। একইভাবে অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদের সংখ্যা ১৫ হাজার ২৭৭টি। এর মধ্যে কর্মরত ১৩ হাজার ৮০৩ জন, আর এক হাজার ৪৭৪টি পদ শূন্য। এ ছাড়া অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের (প্রাক-প্রাথমিক) পদের সংখ্যা তিন হাজার ৩০৫টি। কর্মরত আছেন তিন হাজার ৭৫ জন, শূন্য আছে ২৩০টি পদ। নতুন জাতীয়করণ করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদের সংখ্যা দুই হাজার ৭৩৮টি। এর মধ্যে কর্মরত এক হাজার ৯৭৬ জন, শূন্য আছে ৭৬২টি পদ। একইভাবে অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদের সংখ্যা ১০ হাজার ৮২৪টি। কর্মরত আছেন ১০ হাজার ১৪৫ জন, আর ৬৭৯টি পদ শূন্য। অন্যদিকে নতুন এক হাজার ৫০০ স্কুল প্রকল্পের অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদের সংখ্যা ১৩২টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৪৯ জন, শূন্য আছে ৮৩টি পদ। অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদের সংখ্যা ৫৩২টি। কর্মরত আছেন ১৮৭ জন, আর ৩৪৫টি পদ শূন্য। সব মিলিয়ে এক হাজার ২৫৬টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলার কারণে ভেঙে পড়েছে স্কুলগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বরিশাল বিভাগে শিক্ষক সংকটের কারণে চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা। এ অঞ্চলের প্রায় চার হাজার শিক্ষক পদ শূন্য রয়ে গেছে। কোনো কোনো স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে পাঠদান। ফলে বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় এক হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরকারীকরণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদটি দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড অফিসার পদমর্যাদার হওয়ায় এখন পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই আগের তুলনায় শূন্য পদে অনেক নিয়োগ হয়েছে। একইভাবে এ বছরও নিয়োগপ্রক্রিয়া চালানো হবে। তাতে করে এ দুর্ভোগ অনেকাংশে লাগব হবে।’

জেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের সভাপতি শিক্ষক শংকর চন্দ্র পোদ্দার জানান, অনেক শিক্ষক ২৭ বছর পর সহকারী শিক্ষক থেকে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান শিক্ষক হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে নতুন করে সহকারী শিক্ষক পদে শূন্যতা দেখা দিয়েছে। দিনে দিনে সরকার প্রাথমিক স্তরের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে গ্রামের স্কুলগুলোতেও শিক্ষক নিয়োগ দিচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, সরকার এ শূন্য পদেও আগামী দিনে শিক্ষক নিয়োগ দেবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক এস এম ফারুক জানান, বিভাগে শিক্ষক সংকট আছে। তবে তা আগের তুলনায় অনেক কম। সরকার পুল ও প্যানেলের বেশকিছু শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ায় সংকট কেটেছে অনেক। এর বাইরেও সংকট নিরসনে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য