kalerkantho

মন্ত্রীর দেহরক্ষী বলে কথা!

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি   

২৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চরভাঙ্গুড়া গ্রামে ২০ শতাংশ জমির ওপর পাঁচটি পরিবার অর্ধশত বছর ধরে বসবাস করছে। এই জমি দখলে নিতে থানা পুলিশকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হুমায়ন খান পুলিশের প্রতিরক্ষা বিভাগের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা। যিনি বর্তমানে একজন মন্ত্রীর দেহরক্ষীর দায়িত্বে রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এনামুল হক গত বৃহস্পতিবার পাবনা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভাঙ্গুড়া মৌজায় আর এস রেকর্ডে দখল অনুমতি সূত্রে পাওয়া ২০ শতাংশ জায়গার ওপর এনামুল হক, সাহাবুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলাম পরিবারসহ বসবাস করে আসছেন। এই জমি তাঁদের পূর্বপুরুষ ভোগদখল করেছেন। সম্প্রতি উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) হুমায়ন খান ও তাঁর চাচাতো ভাইয়েরা এই জমির মালিকানা দাবি করেন। এনামুল হকসহ অন্যদের বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেন। এনামুলরা জায়গা না ছাড়লে হুমায়নের চাচাতো ভাই রুবেল আহমেদ বসতিদের উচ্ছেদ চেয়ে দেড় সপ্তাহ আগে ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত আবেদন করেন। পুলিশ উভয় পক্ষকে ডেকে বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে সমাধান করতে বলে। হুমায়ন খান বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বারের দেহরক্ষী। তাই তিনি আদালতের বিষয়টি এড়িয়ে ওপর মহল থেকে ভাঙ্গুড়া থানাকে চাপ দেন এই পাঁচ পরিবারকে উচ্ছেদ করতে। অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার এএসআই সাজেদুর রহমান দফায় দফায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বসতিদের বাড়ি ছাড়তে গালাগাল করেন।

তবে এএসআই সাজেদুর রহমান গালাগালের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে উভয় পক্ষকে চাপ দেওয়া হয়েছে। তবে ওপর মহলের তদবিরে বেশ কয়েকবার সেখানে গিয়েছি।’

বিশেষ শাখার এএসআই হুমায়ন খান বলেন, ‘আমাদের অবহেলার কারণে এত দিন এই জায়গা অন্যরা ভোগদখল করত। এখন নিজেদের জায়গা বুঝে নিতে সব প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।’

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল খান জানান, একটি বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করা কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাসিন্দা পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ন খানের বিরোধ চলছে। থানা পুলিশ বিষয়টি দেখছে।

ভাঙ্গুড়া থানার পরিদর্শক মাসুদ রানা জানান, বাড়ির সীমানা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছে। সেটা নিষ্পত্তি করতে আগামী সোমবার উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।

মন্তব্য