kalerkantho

ভাঙ্গুড়ায় নদী-খাল ভরাট করে ভবন

মাসুদ রানা, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাঙ্গুড়ায় নদী-খাল ভরাট করে ভবন

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের জগাতলা বাজারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন সোহেল প্রামাণিক। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বড়াল নদ ও পাউবোর খাল ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন স্থানীয় দুই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের শরত্নগর বাজার সংলগ্ন বড়াল নদ ও জগাতলা বাজার সংলগ্ন পাউবোর (পানি উন্নয়ন বোর্ড) খাল ভরাট করে এই বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পাবনা পাউবো অফিস ও স্থানীয় পৌর ভূমি অফিসে অভিযোগ দিলেও নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ভাতিজা ব্যবসায়ী সোহেল প্রামাণিক পৌর শহরের শরত্নগর বাজারের ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সংলগ্ন বড়াল নদের ভেতরে প্রায় ৩০ ফুট এলাকা মাটি দিয়ে ভরাট করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। ভরাট করা মাটি ধসে যাওয়া ঠেকাতে চারপাশে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক অর্ধশত বছর আগে নদীর পার থেকে ৩০ ফুট পূর্বে এই স্থানে একটি ভবন নির্মাণ করেছিলেন। দুই বছর আগে তিনি মারা যান। পরে তাঁর ভাতিজা সোহেল পুরনো ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করছেন। কিন্তু তিনি আগের জায়গা ছাড়াও নদীর ৩০ থেকে ৪০ ফুট এলাকা দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন। বিষয়টি স্থানীয় ভূমি অফিসের লোকজন দেখে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

নদী দখলের বিষয়ে সোহেল প্রামাণিক বলেন, নদীভাঙনে তাঁদের জায়গা কমে গিয়েছিল। এত দিন তাঁর চাচা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। তাই চাচার ফেলে রাখা জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণ করছেন তিনি।

এদিকে পৌর শহরের জগাতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় ব্যবসায়ী শ্যামল বর্মণ আঞ্চলিক সড়কের পাশে পাউবোর খালের সড়কসংলগ্ন অংশ ভরাট করে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে, এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর এই খাল দুই লাখ টাকায় ইজারা নেয়। দিন দিন খালের পার দখল হয়ে যাওয়ায় খালটি থেকে মুখ সরিয়ে নিয়েছে মৎস্য ব্যবসায়ীরা। ফলে বাজারমূল্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খালটির ইজারামূল্য বাড়ছে না। এদিকে অবৈধ স্থাপনাগুলো নির্মাণকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থাপনা নির্মাণে তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উপরন্তু পাউবোর কর্মচারীরা এসে মাঝেমধ্যেই এসব অবৈধ দখলদারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

দখলকারী শ্যামল বর্মণ বলেন, ভবন নির্মাণের জন্য পাবনা জেলার পাউবোর অফিসে বেশ কিছুদিন আগে আবেদন করেন তিনি। তাদের অনুমতি পেয়েই তিনি ভবনের নির্মাণকাজ শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া পৌর ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ জানান, নদী ও খাল দখলের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। শিগগিরই ভবন দুটির নির্মাণকাজ বন্ধ করা হবে।

পাবনা পাউবো অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম জহুরুল হক বলেন, ‘ভাঙ্গুড়ায় নদী ও খাল দখলের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। এরই মধ্যে অবৈধ দখলদারদের তালিকাও করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে যেকোনো সময় সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

 

মন্তব্য