kalerkantho

ফরিদপুর-ময়মনসিংহ

মাথার ওপর ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মাথার ওপর ঝুঁকি

ফরিদপুর সদর উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দায় এক বছর আগে একতলা ভবনের ওপর দিয়ে টানানো হয়েছে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন। ছবিটি গত বুধবার তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুর শহরে কয়েকটি বাড়ির ওপর দিয়ে বিদ্যুতের জাতীয় গ্রিডের ৩৩ হাজার ভোল্টের তার টানানো হয়েছে। অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া সদরে মাছ বাজারে ২০০ কেভি ট্রান্সফরমারের নিচে কামারের দোকান বসানো হয়েছে।

ফরিদপুর শহরের বাইপাস সড়কের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশ দিয়ে ওজোপাডিকোর ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চলে গেছে। এই লাইনের মাঝ বরাবর ব্রাহ্মণকান্দা এলাকায় অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করে। ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন বসতবাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে পরিবারগুলো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ওই এলাকার বসতবাড়ির টিনের ঘরগুলোর কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাত্র আধা হাত ওপর দিয়ে চলে গেছে। কোনো বাড়িঘরের ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন কোনোভাবে আইনসিদ্ধ নয়। এটা ওই বাড়িঘরে বসবাসকারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো মুহূর্তে এ লাইনের কারণে ঘটে যেতে পারে প্রাণহানির মতো মারাত্মক দুর্ঘটনা। এ লাইন নেওয়ার অনেক আগে থেকেই এখানে পরিবারগুলো বসবাস করে আসছে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে পরিবারগুলো বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনটি ঘুরিয়ে স্থাপনের জন্য বারবার কর্তৃপক্ষকে তখন অনুরোধ করেছিল।

যথেষ্ঠ পরিমাণ জায়গা থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন টানানোর সময় পরিবারগুলোর অনুরোধ উপেক্ষা ও একগুঁয়েমি করে ওজোপাডিকো লাইন টেনে নেয়। এই পরিবারগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি তারা কোনোভাবে আমলে নেয়নি।  উল্টো পানিতে পিলার স্থাপন করে লাইন টেনে নিয়ে গেছে।  ঝড়-বৃষ্টির দিনে লাইন ছিঁড়ে পানিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হয়ে পুরো এলাকার মানুষের জীবনে ডেকে আনতে পারে মহাবিপর্যয়। সার্বিক নিরাপত্তার দিক বিবেচনা করে এলাকাবাসী লাইন সরানোর জন্য ফরিদপুরের ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করে। প্রায় এক বছর ধরে সে আবেদন ঝুলে আছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় অর্ধশতাধিক পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি কোনো গুরুত্ব পায়নি।

ব্রাহ্মণকান্দার বাসিন্দা শেখ আবুল বাশার বলেন, ‘আমার বসতঘরের ওপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন চলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ঝুঁকি নিয়ে বাস করছি। বিদ্যুৎ লাইনের কারণে ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারছি না। পরিবার-পরিজন নিয়ে শঙ্কার মধ্যে থাকছি। এ ছাড়া লাইনের পিলার বাসার পাশে খালের মধ্যে থাকায় পানিতে নামতেও আমরা ভয় পাই। লাইনটি সরানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে লিখিত আবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

ওজোপাডিকো ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিপণন) মো. মুরশীদ আলম জানান, ব্রাহ্মণকান্দা এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনটি আমলে নিয়ে সুপারিশসহ খুলনায় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

ওজোপাডিকো, খুলনা কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ টি এম তারিকুল ইসলাম (পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেল, ফরিদপুর) বলেন, ‘আবেদনটি আমি পেয়েছি। ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সরানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। এটা সম্পূর্ণভাবে সদর দপ্তরের এখতিয়ারে। আবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সুপারিশসহ আমরা সদর দপ্তরে পাঠিয়েছি। সদর দপ্তর থেকে অনুমোদন পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মাছ বাজার সরকারি খাদ্য গুদামসংলগ্ন বিদ্যুতের ২০০ কেভি ট্রান্সফরমারের নিচে কামারের দোকান বসানো হয়েছে। আবাসিক প্রকৌশল অফিস (বিদ্যুৎ) থেকে মাত্র দেড় শ গজ দূরে ট্রান্সফরমারের নিচে এ কামারশালাটি। কামারশালাটিতে দিন-রাত আগুনের পুড়ে ধাতব পদার্থের কাজ করায় মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ মধ্যে রয়েছে ট্রান্সফরমারটি।

সরকারী খাদ্য গুদামসংলগ্ন চান্দের বাজার পাকা সড়ক দখল করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবির) বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে ট্রান্সফরমার। এর নিচে একপাশে বাঁশের বেড়া ও চাল দিয়ে কামারশালাটি। সড়কের ওপর ও পাশে মাটি ফেলে দখল করে দোকান দেওয়া হয়েছে। মালিক ভুট্টু কামার বলেন, ‘মৌখিক অনুমতি নিয়েই এখানে দোকান দিয়েছি।’

ফুলবাড়িয়া আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) কর্মকর্তা মো জহিরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের নিচে কামারের কাজ মারাত্মক বিপজ্জনক। দোকনটি সরিয়ে ফেলার জন্য অফিস থেকে লোক পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের কথা শোনেনি দোকানের মালিক।’

ফুলবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য