kalerkantho

ভালুকায় ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করলেন মা

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদকাসক্ত ছেলে জসিম উদ্দিনকে হত্যার পর লাশ বসতঘরে পুঁতে রাখার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে জামালপুর রেলস্টেশন থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ছেলে জসিম উদ্দিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন নিহতের মা সুফিয়া বেগম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জসিম উদ্দিনের বাবা সুলতান মিয়া, মা সুফিয়া বেগম ও ছোট ভাই আলমগীর হোসেন। জানা যায়, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভালুকা মডেল থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশনস) আবুল কালাম আজাদ বৃহস্পতিবার রাতে জামালপুর রেলস্টেশন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা জসিম উদ্দিনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। 

গ্রেপ্তারকৃত সুফিয়া বেগম সাংবাদিকদের জানান, তিন বছর ধরে নেশা করত জসিম উদ্দিন। নেশার টাকা জোগাড়ের জন্য সে প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের গায়ে হাত তুলত। গত শনিবার রাতেও সে নেশার জন্য তিন হাজার টাকা দাবি করে। কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা না পাওয়ায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সে। পরে রাতে বাড়ি ফিরে আবারও টাকার জন্য ঝগড়া করতে শুরু করে। তিনি আরো জানান, ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি হাতুড়ি দিয়ে ছেলের চাপায় আঘাত করেন এবং তাকে হত্যা করেন।

সুফিয়া বেগম জানান, হত্যার এক দিন পর জসিম উদ্দিনের লাশ বসতবাড়ির ভেতরে গর্ত খুঁড়ে চাপা দেওয়া হয়। পরে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে জসিম উদ্দিনের বাবা ঢাকায় চলে গেলে তিনি পাশের গফরগাঁও উপজেলার ধামলই গ্রামের তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান। সেখান থেকেই মোবাইল ফোনে জসিমের বাবা ও ছোট ভাই আলমগীরকে ওই বাড়িতে ডেকে নেন এবং রাতেই গফরগাঁও থেকে ট্রেনযোগে জামালপুরে চলে যান। সেখনেই স্টেশন থেকে পুলিশ তাঁদের আটক করে।

ভালুকা মডেল থানার ওসি জানান, মাদকাসক্ত ছেলেকে হত্যার পর লাশ বসতঘরে পুঁতে রাখার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের আজ শনিবার আদালতে পাঠানো হবে।

মন্তব্য