kalerkantho


হবিগঞ্জে স্বাস্থ্য বিভাগে লোক নিয়োগে দুর্নীতি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



হবিগঞ্জে স্বাস্থ্য বিভাগে লোকবলের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার মোট চিকিৎসকের পদের মধ্যে মাত্র ২৭ শতাংশ কর্মরত আছেন। কর্মচারী সংকটও চরমে। সংকট দূর করতে ৪৮টি পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোকবল নেওয়ার অনুমোদন পেলেও সিভিল সার্জনের দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতার জন্য দরপত্র আহ্বানের ছয় মাসের মধ্যেও কার্যাদেশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বৈধ ঠিকাদারকে কাজ না দিয়ে পছন্দের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সিভিল সার্জন সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে কাজ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে জানা যায়, হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য ৪৮টি পদে লোকবল সরবরাহের জন্য গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহ্বান করেন। পদের মধ্যে রয়েছে অফিস সহায়ক ১৩টি, ওয়ার্ড বয় পাঁচটি, নিরাপত্তা প্রহরী ছয়টি, বাবুর্চি ছয়টি, আয়া পাঁচটি, মালি দুটি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী ১১টি। দরপত্র আহ্বান করলে ১২টি দরপত্র জমা পড়ে। পরে যাচাই-বাছাইকালে যথাযথ কাগজপত্র না থাকায় ১১টি দরপত্র বাতিল হয়ে যায়। শুধু মেসার্স কোহিনূর এন্টারপ্রাইজের দরপত্র যথাযথভাবে পাওয়া যায়। পরে বোর্ড কোহিনূর এন্টারপ্রাইজের নাম চূড়ান্ত করে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠায়। কিন্তু সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তাঁর পছন্দের লোক আফতাব উদ্দিন ফরহাদকে কাজ দিতে উঠেপড়ে লেগে যান। একপর্যায়ে ঠিকাদার হিসেবে ফরহাদের নাম প্রস্তাব করে ফাইল ঢাকায় পাঠান সিভিল সার্জন।

এ ঘটনায় কোহিনূর এন্টারপ্রাইজের প্রপ্রাইটার আজিজুর রহমান (আজিজ) দুদকে আবেদন করেন।  আবেদনে বলা হয়েছে, সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী মোটা অঙ্কের টাকায় বশীভূত হয়ে আফতাব উদ্দিন ফরহাদকে কাজ দিতে চাইছেন। অথচ প্রাথমিক বাছাইয়ে তাঁর দরপত্র বাতিল করা হয়েছিল।

আজিজুর রহমান আজিজ বলেন, ‘দরপত্র আহ্বান করা হয় চুক্তিমূল্যের ওপর। এখানে কোনো কমিশনের কলাম নেই। অথচ চুক্তিমূল্য বাদ দিয়ে কমিশনের ওপর আয় কর্তন করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আফতাব উদ্দিন ফরহাদকে কাজ দিলে সরকার এক লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৮ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।’

এদিকে গত ছয় মাস ধরে লোকবল নিয়োগের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় জেলার অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ও গোপলার বাজার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজনও লোক না থাকায় সেখানে সেবামূলক কোনো কার্যক্রম নেই।

হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. সুচিন্ত চৌধুরী বলেন, এ কাজে কোনো দুর্নীতির আশ্রয় নেননি।



মন্তব্য