kalerkantho


রংপুরের ভাষাসৈনিক বড়দার প্রতিবাদ

রংপুর অফিস   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



রংপুরের ভাষাসৈনিক বড়দার প্রতিবাদ

রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একুশের প্রথম প্রহরে অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন ভাষাসৈনিক আশরাফ হোসেন বড়দা। তিনি বলেন, ‘অবক্ষয়ের হাত থেকে মুক্তি পেতে হবে।’ ছবি : কালের কণ্ঠ

কয়েক বছর ধরে একুশে ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে ভাষাসৈনিক আশরাফ হোসেন বড়দা রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন। এবারও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। গলায় ব্যানার ঝুলিয়ে বায়ান্নর আন্দোলনের মতো অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে ডাক দিলেন। শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের সময় সত্যিকারের ভাষার স্বাধীনতার জন্য প্রতিবাদ জানালেন ভিন্ন আঙ্গিকে। নতুন প্রজন্মকে আহ্বান জানালেন, ‘আমরা যে ভাষার স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম-আন্দোলন করেছি, তা এখনো পাইনি। ভাষা-সংস্কৃতির প্রতিটি স্তরে এখনো অবক্ষয়। এই অবক্ষয়ের হাত থেকে মুক্তি পেতে হবে। তা না হলে ভাষা শহীদদের প্রতি অবজ্ঞা করা হবে।’ একুশে ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে তিনি তাঁর এই অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন।

আশরাফ হোসেন বড়দা এ সময় বলেন, আকাশসহ বিভিন্ন অপসংস্কৃতির কারণে এ দেশের তরুণদের সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে। তিনি সব ধরনের অপসংস্কৃতির লাগাতার উৎকট আগ্রাসনের প্রতিরোধে তাঁর উত্তরসূরিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন রংপুরের সংস্কৃতি অঙ্গনের বেশ কয়েকজন।

ভাষা আন্দোলনে কেমন করে জড়ালেন—এ প্রসঙ্গে আশরাফ হোসেন বড়দা আরো বলেন, ‘জ্ঞানতাপস শহীদুল্লাহর একটি আর্টিকেল পড়ে রাষ্ট্রভাষার প্রতি উদ্বুদ্ধ হই।’ প্রগতিশীল শিক্ষক সন্তোষ গুহ ও কবি শাহ আমানত আলীর কাছ থেকেই পেয়েছেন প্রাণের ভাষা বাংলার অনুপ্রেরণা। ১৯৫২ সালে তিনি লালমনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। ১৯৫২ সালে লালমনিরহাটের আবুল হোসেন, ছামছুল হক, আনিছুল হক, ষষ্টী সরকার, নাসির ইদ্দিন, নাসিম আহমেদ, টুকু চৌধরীসহ অনেকের সঙ্গে মিছিলে শরিক হতেন তিনি। ১৯৫২ সালে যখন শুনলেন ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন সালাম, রফিক, বরকতসহ অনেকেই; তখন তাঁরা রাজপথে নামেন। সেই সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন। তখনকার মিছিলে স্লোগান ছিল নাজিম, নুরুল দুই ভাই, এক দড়িতে ফাঁসি চাই। ১৯৫৪ সালে আত্মগোপনে চলে যান আন্দোলনের কারণে। ১৯৫৫ সাল থেকে রংপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁর রাজনৈতিক গুরু শাহ আমানত কমিউনিস্ট পার্টি করতেন। তিনি তৎকালীন সময়ে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

প্রথমে ন্যাপ-ভাসানী করলেও পরে ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, পরে সাত দল, এর পরে বিএনপিতে কিছুদিন, তারপর পদত্যাগ করেন। তিনি বলেন, ‘যে আকাঙ্ক্ষায় ভাষা আন্দোলন করেছিলাম, তা আজও পাইনি। সুন্দর একটি সমাজ গড়তে পারলাম না। সত্যিকারের স্বাধীনতা আনতে হলে ভাষা আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।’



মন্তব্য