kalerkantho


রংপুরে আমন চাল সংগ্রহ অভিযান

খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

রংপুর অফিস   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



রংপুরের মিঠাপুকুরে শঠিবাড়ী সরকারি খাদ্য ক্রয়কেন্দ্র ও গুদামে উেকাচ ছাড়া চাল নেওয়া যায় না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিম্ন্নমানের ও কম ওজনের চাল ঢোকানোর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা উেকাচ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। চলতি আমন মৌসুমে চাল সংগ্রহ অভিযানে মিলারদের কাছ থেকে টনপ্রতি ৮০০ টাকা হারে প্রায় ২৮ লাখ টাকা উেকাচ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে শঠিবাড়ী খাদ্যগুদামে সরকারিভাবে তিন হাজার ৫২৯ মেট্রিক টন চাল কেনার বরাদ্দ আসে। ১৫১ জন মিলারের কাছ থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে চালগুলো কেনার কথা। এরই মধ্যে প্রায় তিন হাজার মেট্রিক টন চাল কেনা হয়েছে। নতুনভাবে বরাদ্দ এসেছে আরো ৫৬০ মেট্রিক টন চাল।

মিলারদের অভিযোগ, শঠিবাড়ী খাদ্যগুদামে সরকারিভাবে চাল বিক্রি করতে কর্মকর্তাকে প্রতি মেট্রিক টন চালের জন্য ৮০০ টাকা করে উেকাচ দিতে হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনি প্রায় ২৮ লাখ টাকা উেকাচ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন মিলার। ব্রাদার্স অটো মিল লিমিটেডের পরিচালক তাইদুর রহমান লকেট বলেন, ‘আমার অটো রাইস মিলের আওতায় এক হাজার ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছিলাম। এরই মধ্যে বেশির ভাগ চাল দেওয়া হয়েছে। এ জন্য গুদামের কর্মকর্তাকে ছয় লাখ টাকা উেকাচ দিয়েছি। তিনি আরো দুই লাখ টাকা দাবি করছেন।’

উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম প্রামাণিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ৭০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পেয়েছিলাম। চালগুলো গুদামে ঢোকাতে চার লাখ ২৫ হাজার টাকা উেকাচ নিয়েছেন কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার। তিনি আরো টাকা দাবি করছেন।’ আরো অনেক মিলার এমন অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে। শুধু উেকাচই নয়, শঠিবাড়ী খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ফারজানা আক্তারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতিসহ ওজনে কম দেওয়া, নিম্নমানের চাল ক্রয়সহ মিলারদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ করছেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শঠিবাড়ী খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার দাবি করেন, ‘মিলারদের অভিযোগ সত্য নয়। আমি কোনো টাকা নিচ্ছি না।’ পরে এ ব্যাপারে আর কোনো প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন-অর রশীদ বলেন, কেউ কেউ অবৈধ সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে অভিযোগ সত্য হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



মন্তব্য