kalerkantho


বনের ঘরে ‘ভূতের’ বাস কর্মকর্তা ঢাকায়

মনিরুজ্জামান, নরসিংদী   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



বনের ঘরে ‘ভূতের’ বাস কর্মকর্তা ঢাকায়

নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ফরেস্ট অফিস জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন। ছবি : কালের কণ্ঠ

নরসিংদীর পলাশ উপজেলা বন অফিসের দায়িত্বে রয়েছেন একজন কর্মকর্তা। তিনি ঢাকায় বসবাস করেন। মাসে দুই-একবার পলাশ এলেও থাকেন এক-দুই ঘণ্টা। এ কারণে ভূতুড়ে ঘরে পরিণত হয়েছে অফিসটি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পলাশ উপজেলা পরিষদের পশ্চিম পাশে অবস্থিত উপজেলা বন অফিস। একটি আধা পাকা টিনশেড ঘর, পাশে ভাঙা শৌচাগার। জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ঘরের ভেতর একটি চেয়ার ও একটি টেবিল। এর পাশে রয়েছে মাকড়শার জালবাঁধা অনেকগুলো লাকড়ি ও ময়লা আবর্জনার স্তূপ। অফিসে নেই কোনো ফাইল বা কাগজপত্র। নেই বিদ্যুৎ সংযোগ। অনেকটা সুনসান অবস্থা। খবর নিয়ে জানা যায়, এই অফিসের সব কাজ পরিচালনা করেন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মালি পদের বাছেদ মিয়া। তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে আছেন। আর ফরেস্ট অফিসার আমানউল্লাহ আছে ২০১১ সাল থেকে।

বাছেদ মিয়া বলেন, ‘এখানে কেউ অফিস করে না। তাই এটি দীর্ঘ বছর ধরে এমন অবস্থায় রয়েছে। বড় স্যার ঢাকায় থাকেন। তিনি মাসে দুই-একবার এসে আমাকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে চলে যান। গাছের চারা তৈরির পাশাপাশি অফিসের কাগজপত্রের কাজগুলোও অনেক সময় আমাকে করতে হয়। এসব কাজে আমার পরিবারও সহযোগিতা করে।’

এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা ফরেস্ট অফিসার আমানউল্লাহ মোবাইল ফোনে জানান, অফিস সংস্কারের জন্য কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয় না। তাই এটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত অফিস না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকায় যাত্রাবাড়ীতে একটি ভাড়াবাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। এখানে ছোট ছেলের পড়াশোনার জন্য তিনি নিয়মিত অফিস করতে পারছেন না। অফিসের প্রয়োজনীয় কাজের সময় পলাশ গিয়ে কাজ শেষ করে আবার ঢাকায় আসি। গত দেড় বছর ধরে ঢাকায় থাকছি। ছেলের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর পুনরায় নিয়মিত অফিস করব।’

এ বিষয়ে সামাজিক বনায়ন নার্সারি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র নরসিংদীর ফরেস্টার মোহাম্মদ হাসান জানান, জেলার কয়েকটি বন অফিস জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরকারি কোনো বরাদ্দ না হওয়ায় এগুলোর সংস্কার করা যাচ্ছে না। উপজেলা ফরেস্ট অফিসার আমানউল্লাহর নিয়মিত অফিস না করার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 



মন্তব্য