kalerkantho


মির্জাপুরে ভাটার আগুনে পুড়ছে বনের গাছ

এরশাদ মিঞা, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মির্জাপুরে ভাটার আগুনে পুড়ছে বনের গাছ

মির্জাপুরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় বনাঞ্চলের গাছপালা হুমকির মুখে পড়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় একের পর এক গড়ে উঠছে ইটভাটা। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠা এসব ভাটার কালো ধোঁয়ায় পাহাড়ের বনাঞ্চল হুমকির মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বনাঞ্চল থেকে কমপক্ষে তিন কিলোমিটার দূরে ইটভাটা স্থাপন করার সরকারি বিধান রয়েছে। কিন্তু স্থানীয় একটি মহল সরকারি নিয়ম ভেঙে বনের পাশে একের পর এক ইটভাটা স্থাপন করে চলছে।

প্রায় এক যুগ আগে উপজেলার তরফপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটা বন বিভাগের বিট অফিস থেকে মাত্র ৩০০ গজ দূরে দুটি ভাটা গড়ে ওঠে। এ সংবাদ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলেও অজ্ঞাত কারণে নীরব থাকে বন বিভাগ। এতে সাহসী হয়ে ওঠে ভাটা ব্যবসায়ীরা। পরবর্তী সময়ে আজগানা ইউনিয়নের পলাশতলী, চিতেশ্বরী, বেলতৈল, খাটিয়ার হাট, গোড়াই ইউনিয়নের রহিমপুর, সৈয়দপুর, বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাঁচগাঁও, তরফপুর ইউনিয়নের পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন স্থানে সরকারি বনাঞ্চলসংলগ্ন তিন কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে প্রায় ২০টি ভাটা গড়ে ওঠে। এসবের বেশির ভাগ পাহাড়ি অঞ্চলের টিলা কেটে (উঁচু স্থান) স্থাপিত হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে টিলা কেটে ভাটায় মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে পাহাড়ি অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি বিনষ্ট হতে বসেছে। তা ছাড়া অবাধে টিলাগুলো কাটায় ওই সব এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ভাটার আগুনের তাপে ও কালো ধোঁয়ায় বনাঞ্চলের পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। অপরদিকে ভাটাগুলোতে বড় বড় ট্রাকে করে মাটি নেওয়ায় গোড়াই-সখীপুর আঞ্চলিক সড়ক ও গ্রামাঞ্চলের সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাঁশতৈল রেঞ্জের পাশে বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাঁচগাঁও মৌজায় রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতারা এলএমবি, ডিবিএম-৩, এইচবিসি, কেবিএম-৩ ও ৪, এবিএম-৩, এসবিসি-২, আজাগানা ইউনিয়নের ঘাঘরাই বটতলা এলাকায় এসএবিসি, বেলতৈল এলাকায় এসবিএম-৩ নামে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। পাথরঘাটা এলাকায় তরফপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন গত বছর নতুন একটি ভাটা স্থাপন করেন। এসব ভাটার কালো ধোঁয়ায় কোথাও কোথাও বৃক্ষের ফল ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। তা ছাড়া সরকারি বনাঞ্চলের কাঠ কেটে চোরাকারবারিরা এসব ভাটায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বনাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসব ভাটার কারণে মির্জাপুরের আজগানা, বাঁশতৈল ও তরফপুর ইউনিয়নের সরকারি বনাঞ্চলের পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মির্জাপুর বন বিভাগের রেঞ্জার সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বনাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোকে বন বিভাগের ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া এসব ইটভাটার অধিকাংশের কোনো লাইসেন্স নেই।’

টাঙ্গাইলের পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি বিভাগ ও বন বিভাগের ছাড়পত্র পাওয়ার পর পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়ে থাকে। মির্জাপুরের ভাটাগুলো তো বন বিভাগ থেকেই ছাড়পত্র পায়নি। তা ছাড়া পরিবেশের ক্ষতি করে ভাটা স্থাপন করা মোটেও কাম্য নয়।



মন্তব্য