kalerkantho


চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে ফাঁকি

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



রাজশাহীর বাঘায় লালচাঁদ আলী নামের এক ব্যক্তি পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলামের বাবা ভাদু মণ্ডল বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন। মামলা করার পর থেকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানো ও হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বাঘা উপজেলার উত্তর মিলিক বাঘা গ্রামের সোলাইমান হোসেন জেটুর ছেলে লালচাঁদ আলী পুলিশ সদস্যের চাকরি দেওয়ার নাম করে একই গ্রামের ভাদু মণ্ডলের ছেলে শরিফুল ইসলামের কাছে থেকে ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ছয় লাখ ৭০ হাজার টাকা নেন। তবে চাকরি দিতে না পারায় তাঁর কাছে টাকা ফেরত চায়। একপর্যায়ে তাকে চার লাখ ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। অবশিষ্ট দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন তাঁর কাছে টাকা চাইতে গেলে আর টাকা দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেয় লালচাঁদ আলী। একপর্যায়ে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট ভাদু মণ্ডল বাদী হয়ে লালচাঁদের বিরুদ্ধে বাঘা পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পৌরসভা থেকে লালচাঁদ আলীকে নোটিশের মাধ্যমে ডাকা হলেও সে হাজির হয়নি। এভাবে কয়েক দফা হাজির না হলে পৌরসভার পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আইনের আশ্রয়ের জন্য লিখিতভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়। আদালতে মামলা করার আগে ২০১৭ সালের ১ জুলাই রাজশাহী পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেন ভাদু মণ্ডল। এ ব্যাপারে বাঘা থানাকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। কিন্তু বাঘা থানার পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ২০১৮ সালের ৩০ নভেম্বর রাজশাহীর আদালত-৩-এ মামলা করা হয়।

এ বিষয়ে ভাদু মণ্ডল বলেন, ‘আমার ছেলের পুলিশের চাকরি হবে ভেবে সরল বিশ্বাসে গরু বিক্রি, জমি বন্ধক রাখাসহ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে লালচাঁদ আলীকে টাকা দিই।’

এ ব্যাপারে লালচাঁদ আলী বলেন, ‘আপনারা যা পারেন পেপারে লেখেন। আমার ছবি দিয়ে পেপারে দেন। এতে কোনো আপত্তি নেই। আমার নামে যে অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো আইনিভাবে খালাস পেয়েছি।’

বাঘা থানার ওসি মহসীন আলী বলেন, ‘ভুক্তভোগী আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। আদালত আইনিভাবে তাঁর ব্যবস্থা নেবে।’

 



মন্তব্য