kalerkantho


গোয়ালন্দে যৌনকর্মী হত্যা

ঘাতক গ্রেপ্তার, থানায় মামলা

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



এক লাখ টাকার জন্য যৌনকর্মী শাহানাজ পারভীন স্বপ্না ওরফে শশীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বখাটে রনি মোল্লার (২২) বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে। এ সময় পল্লীর কয়েকজন পাহারাদার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ রনিকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে ঘটনার পর পরই রনির বন্ধু রফিকুল ইসলাম পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় শাহানাজের খালাতো বোন গতকাল শুক্রবার রনি ও রফিকুলের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দঘাট থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এ মামলায় রনিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহানাজকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে রনি। গতকাল দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। 

পুলিশ, শাহানাজের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের সিলিমপুর গ্রামের সোহরাব মোল্লার বখাটে ছেলে রনি ও একই গ্রামের মো. হালিম মোল্লার ছেলে রফিকুল দুই বন্ধু। বৃহস্পতিবার বিকেলে হরিরামপুরের একটি কলেজের মাঠে বসে রনি রফিকুলকে বলে ‘যৌনকর্মী শাহানাজকে প্রাণে মেরে ফেলতে পারলে নগদ এক লাখ টাকা পাওয়া যাবে। তুই যদি রাজি থাকিস, তবে কাউকে কিছু না জানিয়ে আমরা দুই বন্ধু মিলেই ওকে মেরে ফেলব। পরে টাকাগুলো আমরা সমান ভাগে ভাগ করে নেব।’ লাখ টাকা পাওয়ার কথা শুনে বন্ধুর প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায় রফিকুল। পরে তারা ওই পল্লীর উদ্দেশে রওনা হয়। রাত ৮টার দিকে তারা সেখানে পৌঁছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রফিকুলকে গেটে দাঁড় করিয়ে রেখে শাহানাজের ঘরে ঢোকে রনি। এক সুযোগে রনি তার কোমরে লুকিয়ে রাখা ধারালো ছুরি বের করে শাহানাজের গলার বাঁ পাশে আঘাত করে। এ সময় শাহানাজ চিৎকার দিয়ে ঘরের বাইরে বের হলে পেছন থেকে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করে রনি। সঙ্গে সঙ্গে ওই পল্লীর কয়েকজন পাহারাদার রক্তমাখা ছুরিসহ রনিকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত পালিয়ে যায় রফিকুল। অন্যদিকে মারাত্মক আহত অবস্থায় শাহানাজকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই শাহানাজের মৃত্যু হয়।

গোয়ালন্দঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে কে বা কারা  এক লাখ টাকা দিতে চেয়েছিল তা জানাতে চাননি তিনি।

 

 



মন্তব্য