kalerkantho


চাটমোহর উপজেলা পরিষদের নারী সদস্য

পদে আছেন, কাজে নেই

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



পাবনার চাটমোহর উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে উপনির্বাচনে নির্বাচিত তিন সদস্যের কোনো কার্যক্রম নেই। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সদস্যরা। নির্বাচিত হওয়ার প্রায় এক বছর অতিবাহিত হলেও জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের করণীয় কী—এ বিষয়েও কিছুই জানেন না তাঁরা।

চাটমোহর উপজেলার সংরক্ষিত নারী সদস্যরা হলেন পৌরসভার কাউন্সিলর আলেফা খাতুন, গুনাইগাছা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য কামরুন্নাহার ও নিমাইচড়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নারী সদস্য দুলালী খাতুন।

২০১৮ সালের প্রথমদিকে উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য পদে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। এ পদে আলেফা খাতুন চাটমোহর পৌরসভা, বিলচলন ও মথুরাপুর ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত আসনে, কামরুন্নাহার পার্শ্বডাঙ্গা, গুনাইগাছা ও ফৈলজানা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত আসনে ও দুলালী খাতুন নিমাইচড়া, ছাইকোলা ও হান্ডিয়াল ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সংরক্ষিত আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন।

একাধিক প্রার্থী না থাকায় ২০১৮ সালের ২৪ জানুয়ারি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এ তিনজনকেই বিজয়ী ঘোষণা করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৮ সালের ৭ মার্চ রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান তাঁদের শপথ বাক্য পাঠ করেন।

আলেফা খাতুন বলেন, ‘শপথ নেওয়ার ১০ মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য হিসেবে কোনো কার্যক্রমে আমাদের ডাক পড়েনি। আমাদের কার্যক্রমের পরিধি কতটুকু তাও জানি না।’

কামরুন্নাহার বলেন, ‘আমরা কেবল নামেই উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য। উপজেলায় আমাদের বসার কোনো জায়গা নেই। নেই চেয়ার-টেবিল বা আনুষঙ্গিক কার্যক্রম।’

দুলালী খাতুন বলেন, ‘ইনকাম ট্যাক্সের ফাইল খুললাম, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে টাকা চালান করলাম, নির্বাচিতও হলাম, কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের কোনো কার্যক্রম দেখছি না। এ পর্যন্ত কোনো ভাতাও পাইনি।’

এ ব্যাপারে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার বলেন, ‘তাদের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি একটু দেরিই হয়ে গেছে। বিষয়টা সম্পূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করছে। খুব শিগগিরই হয়তো আমাদের কাছে একটি পরিপত্র মন্ত্রণালয় থেকে আসবে। পরিপত্র হাতে পেলেই কার্যপরিধি সম্পর্কে অবহিত হয়ে তাদের প্রাপ্য দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’

চাটমোহর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় উপনির্বাচনের মাধ্যমে তাদের তিনজনকে নির্বাচিত করেছে।

এক বছর অতিবাহিত হলেও কেন তাঁদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে না—বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। আমি মনে করি, এটা তাদের প্রতি মন্ত্রণালয়ের অমানবিক আচরণ।’

 

 



মন্তব্য