kalerkantho


শেখেরহাট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

উদ্বোধনের পর দুই বছরেও চালু হয়নি

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি   

১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নে ১০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে। সেটি উদ্বোধনের পর কেটে গেছে দুই বছর। কিন্তু এখনো চিকিৎসক ও জনবল সংকটের অজুহাতে তা চালু করা যায়নি। সুদৃশ্য তিনতলা এ ভবনে সেবা নিতে এসে চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

শেখেরহাট বাজারের মধ্যে প্রবেশ করলেই সড়কের সুদৃশ্য ভবনটিতে যে কারো চোখ আটকে যাবে। ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর শেখেরহাট মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রের ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকে প্রায়ই ভবনটি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। অথচ কেন্দ্রটি ডেলিভারি কক্ষ, সলিড কক্ষ, আইউডি কক্ষ, জেনারেল ওয়ার্ড, ডিসপেনসারি, আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষ, ডাক্তার ও সেবিকাদের পৃথক কক্ষ, ব্রেস্ট ফিডিং কক্ষ, গার্ড কক্ষ ও পাম্প হাউস স্থাপন করা হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারে লাগানো হয়েছে এয়ারকন্ডিশন। অত্যাধুনিক চিকিৎসার জন্য এসব আয়োজন করা হলেও কোনো সেবাই পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। পাম্প হাউসে মোটর স্থাপন করা হয়েছে অথচ পানি নেই। ভবন নির্মাণের পর বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৪২ হাজার টাকা বকেয়া বিল পড়ায় সে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বর্তমানে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের এফডাব্লিউভি রোজিনা আক্তারকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে কল্যাণকেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় তাতে দায়সারা সেবা দিচ্ছেন তিনি। ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রটি চালু রাখতে ঝালকাঠি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েক দফায় চিঠি দিলেও কাজ হয়নি। ইউনিয়নবাসীর দাবি, দ্রুত মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রটি যেন চালু করা হয়। 

শেখেরহাট গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রটি আমাদের কোনো উপকারে আসছে না। এখনো অতিরিক্ত টাকা খরচ করে শেখেরহাট ইউনিয়নবাসীকে বরিশাল বা পার্শ্ববর্তী পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী নিয়ে যেতে হয়।’ স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ‘এখানে রোগীরা এসে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। জরুরি কোনো প্রসূতির সন্তান প্রসবের ব্যবস্থাও নেই।’

শেখেরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের এফডাব্লিউভি মা ও শিশু কল্যাণকেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা রোজিনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের এখানে এখনো বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়নি। যার ফলে পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। রোগীদের জন্য আমাকে উপজেলা থেকে কিছু ওষুধ দেওয়া হয়, সেটা আমি জনগণকে দিই।’

ঝালকাঠি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফেরদৌসী বেগম বলেন, ‘আসবাব কেনার জন্য কিছু টাকা পেয়েছিলাম, তা দিয়ে আসবাব কেনা হয়েছে। এখানে জনবল সংকট রয়েছে, আমি এটি চালু রাখার জন্য একজন নিরাপত্তা প্রহরী ও একজন এফডাব্লিউভি দিয়েছি।’

 



মন্তব্য