kalerkantho


কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)

জাফরের প্রচারে উন্নয়ন স্বামীকে ফেরাতে হাসিনার ভোটভিক্ষা

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জাফরের প্রচারে উন্নয়ন স্বামীকে ফেরাতে হাসিনার ভোটভিক্ষা

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে জমে উঠেছে সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা আট প্রার্থীর মধ্যে হেভিওয়েট দুজন হলেন আওয়ামী লীগের জাফর আলম ও বিএনপির হাসিনা আহমেদ। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁরা প্রচার শুরুর পর দুই উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে ভোট উৎসবের আমেজ। অন্য প্রার্থীদের মধ্যে দু-একজন প্রচারণায় থাকলেও তাঁদের নিয়ে ভোটারের আগ্রহ কম।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, কক্সবাজার-১ আসনে মূলত তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকা ও ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যে। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপি প্রার্থী হাসিনা আহমেদ ভোটের মাঠে সরব। স্বামী সালাহ উদ্দিন আহমেদের জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তিনি প্রচার চালাচ্ছেন। স্বামীকে দেশে ফেরত আনতে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জেল থেকে মুক্ত করতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইছেন তিনি।

নৌকার প্রার্থী জাফর আলমও নির্বাচনী মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন ফজরের নামাজ সেরেই নেমে পড়ছেন প্রচারণায়। প্রচারণার ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন ইউনিয়নে উদ্বোধন করছেন নির্বাচনী কার্যালয়। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সভা-সমাবেশে। সামনে যাকেই পাচ্ছেন জড়িয়ে নিচ্ছেন বুকে। নারীদের কাউকে মা আবার কাউকে বোন সম্বোধন করে ভোট চাচ্ছেন।

ধানের শীষের প্রার্থী হাসিনা আহমেদ ভোটারদের কাছে গিয়ে বলছেন, ‘আপনারা (ভোটার) আমার স্বামী সালাহ উদ্দিনকে বেশি ভালোবাসেন। আপনাদের ভালোবাসার কারণেই তিনি বারবার এই আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আপনারা জানেন, আমার স্বামীকে সরকার গুম করে রেখেছিল। পরে তাঁকে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ফেলে দিয়ে আসা হয়। সেখানে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আটক আছেন। তাঁকে আপনাদের কাছে আসতে দিচ্ছে না সরকার। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকেও সরকার কারাবন্দি করে রেখেছে। আপনাদের একটি ভোটই মুক্তি দিতে পারে খালেদা জিয়াকে। ফিরে আসতে পারেন সালাহ উদ্দিন।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সহসভাপতি এনামুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ তাদের অভিভাবক হিসেবে সালাহ উদ্দিনকেই মনের মধ্যে প্রোথিত করে রেখেছে। তাই যখনই সংসদ নির্বাচন হয়েছে তখনই সালাহ উদ্দিনকে এমপি নির্বাচিত করেছে। এবারও তারা হাসিনা আহমেদকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত করবে।’

নৌকার প্রার্থী জাফর আলমের প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে বর্তমান সরকারের সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন। একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের বলছেন, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আমরা আওয়ামী লীগের একজন এমপি পাইনি। উন্নয়নের স্বার্থে এবং চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ যাতে শান্তিতে সহাবস্থানে বসবাস করতে পারে সে জন্য দলমত নির্বিশেষে নৌকায় ভোট দিন। এবার আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হলে চকরিয়া ও পেকুয়ার কোনো গ্রামই অবহেলিত থাকবে না।’

চকরিয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল হাকিম দুলাল বলেন, ‘চকরিয়া-পেকুয়ায় এবার সুযোগ এসেছে দীর্ঘ ৪৫ বছরের পরাজয়ের গ্লানি মোচনের। সে জন্য এবার নৌকায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে এমপি উপহার দেওয়ার জন্য বৃহত্তর চকরিয়ার মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। এবার আমরা তেমন একজন দক্ষ প্রার্থীও পেয়েছি। তাই চকরিয়া-পেকুয়ার মানুষ এবার আর সেই ভুল করবে না বলে মনে করি।’

চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম বলেন, ‘এই আসনে আমরা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এমপি পাইনি বলে যথাযথ উন্নয়নবঞ্চিত ছিল চকরিয়ার মানুষ। তাই এবার চকরিয়ার মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে নৌকায় ভোট দেবে।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক নেতা ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, ‘চকরিয়ার মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা উন্নয়নের স্বার্থেই নৌকার প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।’



মন্তব্য