kalerkantho


বিদ্যালয়ের জমিতে ত্রাণের টিনে ক্লাবঘর

মনিরুজ্জামান, নরসিংদী   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বিদ্যালয়ের জমিতে ত্রাণের টিনে ক্লাবঘর

নরসিংদী সদর উপজেলার চৌয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সরকারি ত্রাণের টিন দিয়ে ক্লাবঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নরসিংদী সদর উপজেলার চৌয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের এক পাশ দখল করে সরকারি ত্রাণের টিন দিয়ে ক্লাবঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাঠের পাশের ওই জমিটুকু বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের জন্য রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেহেরপাড়া ইউনিয়নের ৬৭ নম্বর চৌয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনায় বিদ্যালয়ের জমিতে জোর করে ক্লাবঘর তৈরি শুরু করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক। তারা বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে গত ৭ ডিসেম্বর ক্লাবঘরের নির্মাণকাজ শুরু করে। এতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধা দিলে যুবকরা ভয়ভীতি দেখায় ও হুমকি দেয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রতিকার চেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ইউএনও এ এইচ এম জামেরী হাসান ‘জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের জায়গাটি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নিতে বলেন মাধবদী থানার ওসিকে। এরই মধ্যে গত ১১ ডিসেম্বর ক্লাবঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে যুবকরা। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলাফেরা ও খেলাধুলা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাবেয়া খাতুন কালের কণ্ঠ’কে বলেন, ‘এখানে ক্লাবের জন্য ঘর বানানো শুরু করলে আমরা তাদের বাধা দিই। কিন্তু বাধা শোনেনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই। তাদের পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেছি। তারা ক্লাবঘরটি নির্মাণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ত্রাণের সরকারি টিন ব্যবহার করছে।’

মাধবদী থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ান বলেন, ‘ইউএনওর লিখিত নির্দেশ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। সেখানে জমিসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হাসান বিষয়টি মীমাংসার দায়িত্ব নিয়েছেন।’

চেয়ারম্যান মাহবুবুল হাসান কালের কণ্ঠ বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সভাপতি কাজগপত্র নিয়ে আসার পর দেখলাম বিদ্যালয়ের জায়গা হচ্ছে ৩০ শতাংশ, যা তাদের রয়েছে। আর ক্লাবের সদস্যরা তাদের নিজস্ব জায়গায়ই ক্লাবঘর নির্মাণ করেছে। যেহেতু ক্লাবঘরটি বিদ্যালয় লগোয়া সেহেতু জায়গাটি বিদ্যালয়ের হলে ভালো হতো। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি আমাদের সেহেতু তারা যেন এই জায়গাটুকু বিদ্যালয়কে দিয়ে দেয় সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করছি, কথা বলছি।’

ইউএনও এ এইচ এম জামেরী হাসান বলেন, ‘আমি বিদ্যালয়ের জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়েছি। এগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ত্রাণের টিন দিয়ে কোনোভাবেই ক্লাবঘর নির্মাণ করা যাবে না। এগুলো তারা কোথা থেকে সংগ্রহ করেছে সে ব্যাপারেও খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



মন্তব্য