kalerkantho


চিকিৎসায় সুস্থ হতে পারেন

সাব্বিরুল ইসলাম সাবু, মানিকগঞ্জ   

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চিকিৎসায় সুস্থ হতে পারেন

জিন্নাত আলীকে খাইয়ে দিচ্ছেন স্ত্রী সেলিনা বেগম

‘বয়স যত বাড়ছে অসুখ-বিসুখে ততই কাহিল হয়ে পড়ছেন। ২০০৯ সালে ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার পর থেকে অসুস্থ। পাঁচ বছর ধরে বিছানায় পড়া। দুধ, ফল ছাড়া কিছু খেতে পারেন না। ঠিকমতো ঘুম হয় না। মাসে আয় পেনশনের পাঁচ হাজার এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ১০ হাজার টাকা—ওষুধ আর পথ্যের জন্যই খরচ হয়ে যায়। ভালো চিকিৎসা করাব কিভাবে!’

মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাত আলী খাঁর স্ত্রী সেলিনা বেগম এভাবেই অসহায়ত্বের কথা বললেন।

‘লিভ ক্যানসেল্ড, কাম শার্প’, পাকিস্তানি আর্মির এমন নির্দেশ পেয়েও তোয়াক্কা করেননি জিন্নাত আলী খাঁ। কেননা তত দিনে বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চে ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন। সেই আহ্বানের কাছে পাকিস্তানি আর্মির নির্দেশ গুরুত্বই বহন করেনি জিন্নাত আলীর কাছে। ২৬ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বাংলাদেশের মানুষের ওপর হামলার খবর পেয়েই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একজন করপোরাল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের সৈনিকে পরিণত হন জিন্নাত।

মানিকগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম অভিযানসহ বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশ নেওয়া এই মুক্তিযোদ্ধা এখন শয্যাশায়ী। ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুড়ী ইউনিয়নের খাঁপাড়ায় বাড়িতে তাঁর দিন কাটে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণা করে। প্রচণ্ড শারীরিক কষ্ট থাকার পরও এই স্মৃতিই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে বলে মনে করেন সেলিনা বেগম। তবে দুই বছর ধরে স্মৃতিশক্তি হারাতে বসেছেন।

গত শনিবার গিয়ে জিন্নাত আলীকে বিছানাতেই পাওয়া গেল। কোনো প্রশ্নেরই স্বাভাবিক উত্তর দিতে পারলেন না। সেলিনা বেগম জানালেন, জিন্নাত আলীর প্রস্রাবের রাস্তায় ইনফেকশন হয়েছে। তাই বিছানার পাশে রাখা ক্যাথেডারের মাধ্যমে প্রস্রাব করতে হয়। হাঁটাচলা করতে পারেন না। টয়লেটের কাজ সারতে হয় বিছানায়। স্ট্রোকের পর সিএমএইচতে তাঁর চিকিৎসা করানো হয়। পুরোপুরি বিশ্রামের নির্দেশ দিয়েছেন চিকিৎসক। স্ট্রোকের পর থেকে হাত-পা কাঁপে। শুয়ে থাকতে থাকতে পেছনে ঘা হয়ে গিয়েছিল।

ছেলে ঝিলান খাঁ মানিকগঞ্জ ডিসি অফিসে সামান্য চাকুরে। তিনি বলেন, ‘বাবার জন্য আমাদের গর্ব হয়। কিন্তু যখন তাঁর চিকিৎসা করাতে পারি না তখন কষ্টে বুকটা ভেঙে যায়। এত দিন ধরে বাবা অসুস্থ। অথচ মুক্তিযোদ্ধারাও দেখতে আসেন না। ডাক্তাররা বলেছেন, চিকিৎসা করালে অনেকটা সুস্থ হবেন। চিকিৎসার জন্য গত বছর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কাছে সাহায্য চেয়ে আবেদন করেছিলাম। কোনো উত্তর পাইনি। বাবার কয়েক শতাংশ জমি আছে। কোনো ব্যবস্থা না হলে ওই জমিটুকুই বেচতে হবে।’

 

 



মন্তব্য