kalerkantho


মা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী ও শিক্ষকের লাশ উদ্ধার

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী ও শিক্ষকের লাশ উদ্ধার

খুলনায় কলেজ শিক্ষিকা, কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মা-ছেলে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নব দম্পতি ও নরসিংদীর মনোহরদীতে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন আত্মহত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কালের কণ্ঠ’র আঞ্চলিক কার্যালয় ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

খুলনা : নগরীর বয়রা এলাকার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের পাশে ভাড়া বাসা থেকে সোমবার রাতে  ইস্মিতা মণ্ডলের (৩১) লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি খুলনা সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজের শরীরচর্চা বিভাগের শিক্ষক ও বটিয়াঘাটা উপজেলার কিসমত ফুলতলা গ্রামের অশ্বীনি মণ্ডলের মেয়ে। পুলিশ লাশের পাশ থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, ইস্মিতা ও তাঁর বোন খুমেক হাসপাতালের নার্স বয়রার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে বোন বাসায় ফিরে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। তিনি আশপাশের লোকজনের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ইস্মিতার লাশ দেখতে পান।

নোটে লেখা আছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। শান্ত মাথায় মৃত্যুর পথ বেছে নিলাম। সবাইকে ক্ষমা করে গেলাম। আমার যে অঙ্গগুলো কাজে লাগে তা ২৫০ বেড হাসপাতালে দান করে গেলাম। টাকাগুলো মাকে দিয়ে গেলাম। তাঁর ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা আমার নেই।’

সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসি মমতাজুল হক বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ইস্মিতা আত্মহত্যা করেছেন। থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) : দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ মঙ্গলবার সকালে সুন্দুলপুর ইউনিয়নের বাঘলপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ভাড়া বাড়ি থেকে মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। মৃতরা হলো চান্দিনা উপজেলার মীরখোলা গ্রামের খালেদা আক্তার (২০) ও তাঁর দেড় বছর বয়সী ছেলে আবু সাঈদ। তাঁর স্বামী আবু বক্কর (২৮) মীরখোলার আবদুল কাদের ছেলে। ঘটনার পর থেকে আবু বক্কর পলাতক।

খালেদার পরিবার ও পুলিশ জানায়, আবু বক্কর ও খালেদা দাউদকান্দি সোনালী আঁশ জুটমিলে কাজের সুবাদে দুই বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় খালেদার মা হনুফা বেগম জামাইকে কিছু আসবাবপত্র উপহার দেন। বক্কর খালেদাকে আসবাবপত্র বেচে বা বাবারবাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিত। টাকা না দেওয়ায় খালেদাকে প্রায়ই নির্যাতন করত। সোমবার রাতে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগিবতণ্ডা হয়। খালেদা আসবাব বেচবেন না বলায় বক্কর রাগ করে বাসা থেকে চলে যায়। পরে খালেদা ছেলেকে বিষপানের সঙ্গে নিজেও পান করেন। এতে তাদের মৃত্যু হয়।

দাউদকান্দি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিষক্রিয়ায় মা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : সোমবার রাতে নাসিরনগরের আলিয়ারা গ্রামে বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করা হয় গ্রামের হাছন মিয়ার ছেলে হারুন মিয়া (২৫) ও হারুনের স্ত্রী পাশের নরহা গ্রামের জামাল মিয়ার মেয়ে মীনা আক্তারের (১৯) লাশ। আড়াই মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়। পরিবারের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে। নাসিরনগর থানার ওসি মো. সাজেদুর রহমান বলেন, স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। পারিবারিক কলহের জেরে ঘটনাটি ঘটতে পারে। তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে লাশ দুটির ময়নাতদন্ত হয়। দুজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন আছে। পরে স্বজনরা লাশ বুঝে নেয়। বিকেল নাগাদ এ বিষয়ে থানায় মামলা হয়নি। পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তারও করেনি। জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।

মনোহরদী (নরসিংদী) : উপজেলার ডোমনমারা গ্রামের ধানক্ষেত থেকে সোমবার রাতে গৃহবধূ ফেরদৌসী বেগমের (২৫) গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। ফেরদৌসী ডোমনমারার শ্যামল মিয়ার স্ত্রী। তাঁর সাত ও পাঁচ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে।

মনোহরদী থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, ধারণা করা হচ্ছে, সন্ধ্যার আগে কাঁচি দিয়ে দুর্বৃত্তরা ফেরদৌসীকে গলা কেটে হত্যা করে। রহস্য উদ্ঘাটনে নিহতের স্বামীকে পুলিশি হেফাজতে আনা হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন।



মন্তব্য