kalerkantho


রায়পুরায় সংঘর্ষে নিহত ৩, দুটি হত্যা মামলা, মূল আসামি জনপ্রতিনিধিরা

ঘটনার দিন থেকে নিখোঁজ ২ জনকে গুমের অভিযোগ

নরসিংদী ও রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল বাঁশগাড়ী ও নিলক্ষা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শুক্রবার সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় দুটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। বাঁশগাড়ীতে তোফায়েল রানা নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর বাবা আবদুল্লাহ ফকির গত রবিবার রাতে ৪৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এতে বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল হক প্রধান আসামি। আর নিলক্ষার সোহরাব হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর মা সাফিয়া খাতুন গতকাল সোমবার দুপুরে নিলক্ষা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হক সরকারসহ (প্রধান আসামি) ২৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

নিলক্ষায় স্বপন মিয়া নিহত হওয়ার ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রায়পুরা থানায় মামলা করেনি পরিবার।

এদিকে নিলক্ষায় সংঘর্ষের দিন থেকে বাঁশগাড়ীর বালুয়াকান্দি এলাকার জয়নাল মিয়ার ছেলে কাউছার (৩৫) ও রাজনগর এলাকার হযরত আলীর ছেলে আবদুল হাই (২৮) নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের লোকজন দাবি করেছে। তবে তাঁদের টেঁটাবিদ্ধ রক্তাক্ত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেখে পরিবার দুটি ধারণা করছে, তাঁরা নিহত হয়ে থাকতে পারেন এবং লাশ গুম করা হয়ে থাকতে পারে। এ ব্যাপারে পরিবারের লোকজন পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সুরাহা মেলেনি।

কাউছারের বড় ভাই বাঁশগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গয়েছ আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ভাই (কাউছার) নিখোঁজ হওয়ার পরদিন শনিবার আমরা ফেসবুকে তাঁর টেঁটাবিদ্ধ ছবি দেখে পুলিশকে জানাই। কিন্তু ঘটনার তিন দিন পরও আমার ভাইয়ের সন্ধান দিতে পারেনি পুলিশ।’

আবদুল হাইয়ের ছোট ভাই আবদুল হান্নান বলেন, ‘আমার ভাই (আবদুল হাই) এক সচিবের গাড়ির ড্রাইভার ছিল। সে বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসার পর শুক্রবার থেকে নিখোঁজ। পরে ফেসবুকে তার টেঁটাবিদ্ধ ছবি দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানাই। কিন্তু এখনো তার খোঁজ পাচ্ছি না। হয়তো কেউ তার লাশ গুম করে ফেলেছে। না হলে চার দিনেও কেন তার সন্ধান নেই!’

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, গত শুক্রবার সকালে বাঁশগাড়ীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে প্রয়াত চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের অনুসারী কবির সরকারের নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত হাফিজুর রহমান শাহেদ সরকারের অনুসারী জাকির হোসেনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তোফায়েল রানা নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। আহত হয় কমপক্ষে ১০ জন।

একই দিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের অনুসারী ছমেদ আলীর নেতৃত্বে প্রতিপক্ষ সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হকের অনুসারী সহী মেম্বারের সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়। এরপর দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে প্রথমে তাজুল ইসলামের সমর্থক সোহরাব হোসেন ও পরে আবদুল হক সরকারের সমর্থক স্বপন মিয়া নামের দুজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। আহত হয় অন্তত ৪০ জন। এ ঘটনায় পুলিশ নিলক্ষা থেকে ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, চার রাউন্ড গুলিসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। রায়পুরা থানার ওসি মহসিন উল কাদির কালের কণ্ঠকে দুটি হত্যা মামলার বিষয় নিশ্চিত করেছেন। দুজন নিখোঁজের বিষয়ে ওসি কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

 



মন্তব্য