kalerkantho


সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল : জালিয়াতি করে চিকিৎসা সনদ

সিভিল সার্জনের নামে মামলা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সিভিল সার্জনের নামে মামলা

সাতক্ষীরায় রোগীর টিপসই ও এক্স-রে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া চিকিৎসা সনদ দেওয়ার অভিযোগে সদ্য অবসরে যাওয়া সিভিল সার্জনসহ সদর হাসপাতালের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত সোমবার সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানাধীন এনায়েতপুর শানপুকুর গ্রামের মারুফা খাতুন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন—সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সদ্য অবসরে যাওয়া সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমান, সদর হাসপাতালের অফিস সহকারী আক্তারুজ্জামান, সেবিকা সানজিদা পারভিন, সাবেক আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ জামিল, ডা. মাহাবুবর রহমান ও অবসরে যাওয়া ডা. পরিমল কুমার বিশ্বাস।

পাটকেলঘাটা থানার এনায়েতপুর শানতলা গ্রামের মৃত শাহাবাজ ফকিরের মেয়ে স্কুল শিক্ষিকা মারুফা খাতুনের করা মামলা থেকে জানা যায়, গত ২৮ মে তিনি ও তাঁর ছোট বোন বেবী নাজমিন প্রতিপক্ষের দা ও লাঠির আঘাতে জখম হয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। এ সময় হাসপাতালের অফিস সহকারী আক্তারুজ্জামানের সঙ্গে তাঁদের পরিচয় হয়। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ৩০ মে সকালে এক্স-রে স্লিপ নিয়ে তাঁরা আক্তারুজ্জামানের কাছে যান। আক্তারুজ্জামান সেবিকা সানজিদাকে ডেকে তাঁদের এক্স-রে করিয়ে আনার জন্য বলে দিয়ে ৭০০ টাকা দাবি করেন। টাকা নিয়ে সানজিদা তাঁদের দুই বোনকে ১২৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে এক্স-রে করিয়ে ছেড়ে দেন। সন্ধ্যায় সানজিদা দুটি এক্স-রে ফিল্ম তাঁদের দেন। ৩১ মে সকাল ১০টায় তাঁদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরে ছাড়পত্র, এক্স-রে ফিল্ম ও এক্স-রে স্লিপ নিয়ে আক্তারুজ্জামানের কাছে যান মারুফা। এ সময় আক্তারুজ্জামান অন্য সব নিজের কাছে রেখে দিয়ে ছাড়পত্র দুটিতে ২৯ মের স্থানে কাটাকাটি করে ৩০ মে লিখে দেন।

এদিকে মারধরের ঘটনায় পাটকেলঘাটা থানায় চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন মারুফা। মামলার আসামিদের বাঁচাতে আক্তারুজ্জামান এ ধরনের অপকৌশল অবলম্বন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে ডা. ফরহাদ জামিল, ডা. পরিমল কুমার বিশ্বাস ও ডা. মাহাবুবর রহমান স্বাক্ষরিত সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সনদে অনিয়মের বিষয়টি বুঝতে পেরে ১৭ জুলাই এর প্রতিকার চেয়ে সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন বরাবর অভিযোগ করেন মারুফা। প্রতিকার না পাওয়ায় সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হয়। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত তদন্ত টিমের কাছে তাঁরা দুই বোন এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দেন। এ সময় হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার তাঁদের একটি কাগজে তিনটি টিপসই দেখিয়ে বলেন, মাসহ তাঁরা দুই বোন এক্স-রে না করার জন্য এ টিপসই দিয়ে গেছেন। প্রতিবাদ করায় হস্তরেখাবিদের কাছে পাঠানোর জন্য তাঁদের কাছ থেকে একটি নতুন কাগজে তিনটি টিপসই নেওয়া হয়। পরে তদন্তকারী টিমের সদস্যদের উপস্থিতিতে আগের টিপসইদাতা হিসেবে অফিস সহকারী আক্তারুজ্জামান ও সেবিকা সানজিদাকে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়ায় ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ১১ অক্টোবর সিভিল সার্জনের কাছে যান মারুফা। এ সময় সিভিল সার্জন তাঁকে এ বিষয়ে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দিয়ে চলে যেতে বলেন।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির সদস্য ডা. জয়ন্ত সরকার জানান, তদন্তে দুর্নীতির প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে আক্তারুজ্জামানকে বদলির জন্য সুপারিশ করেছেন তাঁরা।

সদ্য অবসরে যাওয়া সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তাঁর খেয়াল নেই।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলা হয়েছে।

 

 

 



মন্তব্য