kalerkantho


বিসিএসের ফরম পূরণের নামে প্রতারণা

রাজশাহীতে দোকান মালিকসহ আটক ৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



৪০তম বিসিএস পরীক্ষার ফরম পূরণের নাম করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এক দোকান মালিক। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকেসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ।

আটককৃত ওই দোকান মালিকের নাম মোস্তফা আহমেদ মামুন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটের ‘স্পন্দন কম্পিউটার’ দোকানের মালিক। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি তাঁর দোকানে কম্পিউটার কম্পোজ, ফরম পূরণের কাজ করছেন। আটককৃত অন্য দুজন হলেন আরিফ হোসেন ও রফিকুল ইসলাম। মামুনের দোকানের পাশেই তাদের ‘ভাই ভাই কম্পিউটার’-এর দোকান।

জানা গেছে, বাংলাদেশ কর্মকমিশন (পিএসসি) থেকে বিসিএস পরীক্ষার ফরম পূরণের ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেদনের জন্য ৭০৫ টাকা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ১০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মামুনের দোকানে প্রতিদিনই ২৫-৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী বিসিএস পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য যেতেন। ফরম পূরণে সময় লাগে জানিয়ে তিনি আবেদনকারীদের রোল বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখে রেখে তাঁদের পরদিন এসে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে বলেন। পরে মামুন ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের যাবতীয় তথ্য দেওয়ার আগে একটি নকল প্রবেশপত্র বের করে আবেদনকারীদের দিয়ে দেন। এরপর সে আবেদনকারীদের প্রতিবন্ধী দেখিয়ে ওয়েবসাইটে তাঁদের ফরম পূরণ করে দেন। গত ১৫ দিনে এভাবে প্রতারণা করে তিনি প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৬০০ করে টাকা হাতিয়ে নেন। 

মামুন বলেন, ‘আমি ইচ্ছা করে অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় এ কাজ করেছি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সব টাকা ফিরিয়ে দেব।’ পরে প্রক্টর দপ্তরে তিনি ৮০ হাজার টাকা ফেরত দেন এবং বাকি টাকা শিগগিরই পরিশোধ করবেন বলে জানান। মামুন আরো বলেন, ‘রফিকুল ও আরিফ কাজে নতুন হওয়ায় তারা আমার কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে বলেছিল। এ বিষয়ে কিছুই জানে না তারা।’ 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুত্ফর রহমান বলেন, ‘মামুন যেটি করেছে তা গুরুতর অপরাধ। বিষয়টি নজরে না এলে অসংখ্য শিক্ষার্থী অনিশ্চয়তায় পড়ে যেত। আমি বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে পিএসসিতে যোগাযোগ করেছি। তারা শিক্ষার্থীদের আবার আবেদন করার সুযোগ দিয়েছে।’

এ ব্যাপারে মতিহার থানার ওসি শাহাদত হোসেন বলেন, ‘প্রক্টর দপ্তর থেকে আমরা তিন দোকানিকে প্রতারণার ঘটনায় আটক করেছি। তারা এখন থানায় আছে। রফিকুল ও আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

 



মন্তব্য