kalerkantho


চার বছর ধরে শিকলে বাঁধা

আলম ফরাজী, ময়মনসিংহ (আঞ্চলিক)   

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চার বছর ধরে শিকলে বাঁধা

মানসিক ভারসাম্যহীন স্বামীকে শিকল দিয়ে বেঁধে বেখেছেন স্ত্রী। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘প্রায় ৪০ বছর ধইর‌্যা সংসার করতাছি। ২০ বছর সুখেই আছিলাম। পরের ২০ বছর ধইর‌্যা বিভিন্ন ধরনের পাগলামি শুরু করে (স্বামী)। ঘরে ঠিকমতো থাহে না। অনেক কবিরাজরে দেহাইছি কিন্তু ভালো অয় না। চার বছর ধইর‌্যা তাইন কিরম করা শুরু করে। মানুষরে দৌড়ায়, ঘরের জিনিসপত্র ভাঙ্গে, এইদিক-সেইদিক ফালাইয়া দেয়। রাইত অইলেই প্রতিবেশীরারে ঘুম থাইক্যা ডাইক্যা তোলে। এই অবস্থায় হেরা (প্রতিবেশীরা) ডরায়। এর লাইগ্যা শিকল দিয়া বাইন্ধ্যা রাহি।’

কথাগুলো বললেন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের দশধার গ্রামের জহুর উদ্দিনের (৬৫) স্ত্রী রোকিয়া বেগম (৫৫)। জহুর মানসিক ভারসাম্যহীন। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। এতে রোকিয়াও একরকম অসুস্থ হয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন।

সূত্র জানায়, জহুর উদ্দিন-রোকিয়া বেগমের ভিটেমাটি ছাড়া সহায়সম্পদ বলে কিছুই নেই। নেই সন্তানও। উন্নত চিকিৎসা করাতে পারলে জহুর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে টাকার অভাবে স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারছে না স্ত্রী রোকিয়া। চার বছর আগে জহুর নিজের জমি ছাড়াও পরের জমি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। চার বছর ধরে তাঁকে বেঁধে রাখা হচ্ছে। দিনে বাড়ির বাইরে খেঁজুরগাছে এবং রাতে ঝুপড়ি টিনের ঘরে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। ঘরটি স্যাঁতসেঁতে। এখানেই তিনি মলমূত্র ত্যাগ করেন।

রোকিয়া বেগম জানান, জহুর উদ্দিন চার বছর আগে হঠাৎ উৎপাত শুরু করেন। এ সময় বাড়ি থেকে বের হলে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যেতে না। মানুষের হাতে খাবার দেখলেই কেড়ে নিতেন। না দিলে ভয় দেখাতেন। তিনি বলেন, তাঁর কোনো আয় না থাকায় জীবন সংকটাপন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর স্বামী প্রতিবন্ধী ভাতা এবং তাঁরা কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান না।

এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফাইজুল ইসলাম বলেন, দারিদ্র্যের কারণে জহুর উদ্দিনের স্ত্রী স্বামীকে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। কবিরাজ ছাড়াও কতিপয় ‘পীরের’ দ্বারস্থ হয়ে পানি পড়া নেন ও বিভিন্ন নিয়ম-কানুন পালন করছেন। এর পরও কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এ অবস্থায় আয়ের কেউ না থাকায় স্বামীকে বেঁধে রেখে প্রতিবেশীদের বাড়িতে মাঝেমধ্যে কাজ করেন রোকিয়া বেগম।

নান্দাইল উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অনুপম ভট্টাচার্য্য বলেন, উন্নত চিকিৎসা করালে জহুর উদ্দিন স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারেন।



মন্তব্য