kalerkantho


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি

কর্মচারী পদে ১১ লাখ টাকা লেনদেন, দুজন বরখাস্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কর্মচারী পদে ১১ লাখ টাকা লেনদেন, দুজন বরখাস্ত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্মচারী পদে চাকরি দিতে ১১ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও শরিয়াহ অনুষদের সহকারী রেজিস্ট্রার উমর আলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িচালক মুন্সি তরিকুল ইসলামের সঙ্গে এই লেনদেন হয়। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ওই কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে দক্ষতা ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী সোমবার রাতে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন উপাচার্য হারুন উর রশিদ আসকারী। গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ এ তথ্য জানায়। তিনি বলেন, ‘ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রশাসন তাঁদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেবে।’

সূত্র জানায়, গত ১২ মার্চ ইবির আইসিটি সেলে তিনজন কর্মকর্তার সঙ্গে হার্ডওয়্যার এবং নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান পদে দুজন কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রশাসন। হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান দুটি পদের বিপরীতে ৬৭ জন আবেদন করেন। এর মধ্য একজন রাজশাহীর তানোর উপজেলার অমৃতপুর গ্রামের মামুনুর রশিদ। তাঁকে চাকরি দিতে তাঁর সঙ্গে ১৬ লাখ টাকার চুক্তি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার উমর আলী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িচালক মুন্সি তরিকুল। ৬ জুন ওই বিজ্ঞপ্তির বোর্ড (চাকরি সাক্ষাৎকার) অনুষ্ঠিত হয়। বোর্ডে আগেই উমর ও তরিকুলকে ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন মামুনুর রশিদ। অগ্রণী ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে এ টাকা লেনদেন হয়। গত ১ অক্টোবর সিন্ডিকেটে ওই পদে নিয়োগ সম্পন্ন করে প্রশাসন। তবে চাকরিটি হয়নি মানুনুর রশিদের।

রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের শুরুতে উপাচার্য হারুন উর রশিদ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন মামুনুর রশিদ। অভিযোগে উমর আলী ও তরিকুলের বিরুদ্ধে টাকা লেনদেন এবং ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে অভিযুক্তদের সঙ্গে একটি কথোপকথনের অডিও রেকর্ড দেন তিনি। অভিযোগের পর এর সত্যতা যাচাই করে প্রশাসন। কথোপকথন শুনে প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ পায়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ওই ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা উমর আলীর ব্যক্তিগত অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড ইবি শাখায় সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে জমা আছে।

এদিকে এ ঘটনার তদন্ত কমিটিতে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানুল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এইচ এম আলী হাসান (সদস্যসচিব)। কমিটিকে শিগগির প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতিবাজের স্থান নেই। আমরা প্রাথমিক সত্যতা যাচাইয়ের পর তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 



মন্তব্য