kalerkantho


মণিরামপুরে অনিয়মের অভিযোগ

রাস্তা পাকা করার কাজ বন্ধের নির্দেশ

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



যশোরের মণিরামপুরে টেংরামারী বাজার থেকে জালালপুর বাজার পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ কাজের শুরুতেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ‘বিশ্বজিৎ কনস্ট্রাকশন’ নামের ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা যায়, দুই হাজার ১০০ মিটার এ সড়ক পাকাকরণের লক্ষ্যে কয়েক মাস আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এক কোটি ৫১ লাখ টাকা বরাদ্দে কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্বজিৎ কনস্ট্রাকশনের স্বত্ব্বাধিকারী বিশ্বজিৎ দাস। এক সপ্তাহ আগে কাজের অনুমোদন পান তিনি।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তায় যে ইট ব্যবহারের কথা ছিল, তা ব্যবহার না করে ঠিকাদার নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ শুরুর পাঁয়তারা করছেন। তাই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় রঘুনাথপুর গ্রামের গ্রাম্য চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এত খারাপ ইট দিয়ে রাস্তা করতে দেওয়া যাবে না।’ মাহমুদকাটি গ্রামের ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনে এক গাড়ি ইট ভেঙে রেখেছে। খোয়াগুলো দেখে মনে হচ্ছে মাটির চাকা ( ঢেলা)।’ রঘুনাথপুর গ্রামের কোমল মণ্ডল বলেন, ‘আমরা বহুদিন কাদায় হেঁটে কষ্ট পেয়েছি। রাস্তা পাকা হবে শুনে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন দেখছি, যে ইট ফেলা হয়েছে, তাতে রাস্তা করলে ছয় মাসও টিকবে না। এই ইট সরিয়ে ভালো ইট না আনলে আমরা গণস্বাক্ষর দেব। প্রয়োজনে মানববন্ধন করব।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রাস্তার কাজ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন স্বপন দাস নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘ইট পাওয়া যাচ্ছে না। ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া এলাকার একটি ভাটা থেকে ইট আনতে হচ্ছে। এর থেকে ভালো ইট আশা করলে কাজ করা যাবে না।’ আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘রাস্তার কাজে শত শত গাড়ি ইট লাগে। তাতে উনিশ-বিশ হতেই পারে।’

এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের পক্ষ থেকে কাজ দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন উপসহকারী প্রকৌশলী গাউসুল আজম। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার জন্য বলা হয়েছে।’ উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে নিম্ন মানের ইট অপসারণ না করা পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

 



মন্তব্য