kalerkantho


ফুলবাড়িয়া সদর

সড়কের ওপর বাস টার্মিনাল

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



সড়কের ওপর বাস টার্মিনাল

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে ছবিটি তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

উপজেলা পরিষদ থেকে পাচু মণ্ডলের মার্কেট পর্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম প্রধান সড়কের ৫০০ মিটারের মধ্যে আটটি বাস টার্মিনাল ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্টেশন। স্টেশনগুলো সড়কের ওপর হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এ পথে চলাচলকারীদের। ছোট-বড় শতাধিক গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে প্রতিনিয়তই। এতে যানজট যেমন লেগে থাকে, তেমনি মাঝেমধ্যেই ঘটে দুর্ঘটনা। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদরের প্রধান এই সড়কটি যেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের টার্মিনাল।

উপজেলা সদর থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রামে প্রতিদিন শতাধিক আন্ত জেলা বাস- মিনিবাস চলাচল করে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী বাসের চালকরা সড়কের ওপরই যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। যাত্রী নামানোর পরে সড়কের ওপরই গাড়িগুলো পার্কিং ও ধোয়া-মোছার কাজ সারে তারা। গাড়িগুলোর মধ্যে শুধু আলম এশিয়া পরিবহনের বাসই রয়েছে শতাধিক। এ ছাড়া ঈশা পরিবহন ও বড়বিলা পরিবহনের বাস-মিনিবাসও রয়েছে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক সমিতি ১৯৬৮ ও ১৯৭২ সালে দুইবারে লোকাল বাস স্টেশনের জন্য ১৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে মেইন রোডের পাশে। বর্তমানে সেই জায়গা অনেকটা বেদখল। আন্ত জেলা বাস সার্ভিসের জন্য আলম এশিয়া পরিবহন লোকাল বাসস্টেশনসংলগ্ন ১৫ শতাংশ জমি টার্মিনালের জন্য ভাড়া নেয়। কিন্তু ওই স্থানে সর্বোচ্চ আটটি বাস রাখতে পারে তারা। বাকি বাসগুলো তারা সড়কের ওপর রাখে। তবে সড়কে বাস পার্ক করে রাখার কারণ হিসেবে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা টার্মিনাল না থাকাকে দায়ী করেন। পরিবহন মালিকরা বলেন, ‘নির্ধারিত জায়গা দেওয়া হলে সড়ক থেকে এমনিতেই বাস সরিয়ে ফেলব। জায়গা না থাকার কারণেই সড়কের ওপর গাড়িগুলো রাখতে হয়।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ফুলবাড়িয়া কলেজ পর্যন্ত প্রায় তিন শ গজের মধ্যে ১০টি আলম এশিয়া বাস পার্ক করে রাখা হয়েছে। অথচ সচেতন মহল দীর্ঘদিন ধরে সড়কের ওপর বাস না রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী এ কে এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসনের নাকের ডগায় যেভাবে রাস্তার ওপর গাড়িগুলো পার্ক করে রাখা হয়, এটা অন্য কোথাও সম্ভব নয়। স্থায়ীভাবে একটি টার্মিনাল অতি জরুরি।’ ফুলবাড়িয়া পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজল আকন্দ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাস টার্মিনাল না হওয়ার পেছনে অনেকটা পরিবহন মালিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দায়ী। অথচ গাড়ি পার্ক করার জায়গা না থাকায় পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশন থেকে পরিষদ পর্যন্ত প্রধান সড়কে গাড়িগুলো রাখতে হয়।’

এ ব্যাপারে পৌর মেয়র মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, ‘সড়কে যানবাহন পার্ক করে রাখায় জনতার ভোগান্তির বিষয়টি উপজেলার মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় একাধিকবার বলেছি। পৌর বাস টার্মিনাল করার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। কিন্তু আর্থিক সংকট ও প্রয়োজনীয় জমি না পাওয়ায় টার্মিনাল করা সম্ভব হচ্ছে না।’

আলম এশিয়া পরিবহনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিম বলেন, ‘বাস টার্মিনাল না থাকায় যাত্রী ও পরিবহন মালিক সবাই সমস্যায় আছি। এলাকাবাসীও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে। আর্থিক সংকটে থাকায় পৌরসভা সমস্যাটি সমাধান করতে পারছে না। আমরা ফুলবাড়িয়াবাসী এ ব্যাপারে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

 



মন্তব্য