kalerkantho


সংবাদ সম্মেলন

যশোরে এমপির বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

যশোর অফিস   

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ করেছেন মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোর্তজা জেম। গতকাল রবিবার সকালে যশোর প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেম বলেন, তাঁর ভাই মাফিজুর রহমান হেম ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আগস্টে তাঁর ভাই পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন। পরে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে তিনি শহীদ হন। স্বাধীনতাযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু এ খবর জানার পর একটি শোকবার্তা ও দুই হাজার টাকার চেক পাঠান। ওই সময় তাঁর বাবা আবদুর রব সরদার ও এমপি মনিরুল ইসলামের বাবা আবুল ইসলাম মিলে ৬ শতাংশ জমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। তখন থেকে ওই স্থানে হেমের নামে বিভিন্ন রকম ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে থাকে। বর্তমানে ওই জমির মালিক জেম। সম্প্রতি এমপি মনিরুল তাঁর বাবা আবুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের নামে ওই জমি দখল করেন।

এ ছাড়া দুই ভূমিহীন আনোয়ারা বেগম ও কুলসুম বিবির সরকার প্রদত্ত ২২ শতাংশ জমিসহ বিভিন্ন মালিকের প্রায় তিন একর জমি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দখল করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি জমিটি দখলমুক্ত রাখার জন্য জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছে আবেদন করেও কোনো ফল পাইনি।’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের স্মৃতিস্থানটি সংরক্ষণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে ভূমিহীন আনোয়ারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে এমপি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোর্তজা জেমের বক্তব্য সঠিক নয়। জেম ও আমরা একই বংশের। সে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী লোক। ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইতে উপজেলা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তার নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। নির্ধারিত স্থানে আবুল ইসলাম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন নামে আমার এবং আমাদের অন্য শরিকদের মিলিয়ে একটি বাউন্ডারির মধ্যে ২২৫ শতাংশ জমি। এর মধ্যে গোলাম মোর্তজা জেম, তার এক ভাই ও তিন বোন মিলে ৯ শতাংশ জমির মালিক। তাদের জমি বাদ রেখে আমি এরই মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ১০ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দিয়েছি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক গণপরিষদ সদস্য আবুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি জাদুঘরের নামে।’

 



মন্তব্য