kalerkantho


শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ওয়ানগালা উৎসবে মেতেছে গারোরা

এটি গারো সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব

শেরপুর প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ‘ওয়ানগালা’ উৎসবে মেতেছে গারোরা। এটি গারো সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। গারো বিশ্বাস মতে, নতুন ফসল ঘরে তোলার পর শস্য দেবতাকে উৎসর্গ করার মাধ্যমে পালিত হয় এই ওয়ানগালা বা নবান্ন উৎসব। গতকাল শুক্রবার ঝিনাইগাতী উপজেলার নকশী গ্রামের কারিতাস আলোঘর প্রকল্পের স্কুল মাঠে দিনব্যাপী ওয়ানগালা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। নকশী গ্রামবাসীর সহায়তায় বাংলাদেশ গারো ছাত্রসংগঠন (বাগাছাস) এবং মরিয়মনগর ইয়ংমেন্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইএমসিএ) এই ওয়ানগালা উৎসবের আয়োজন করে।

ওয়ানগালা উৎসবের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইগাতী উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইগাতী উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (টিডাব্লিউএ) সভাপতি নবেশ খকশী, ঢাকা নকমান্দি ক্রেডিট ইউনিয়ন সভাপতি নবীন সাংমা, ওয়াইএমসিএ মরিয়মনগর সভাপতি পবিত্র ম্রং, বাগাছাস সভাপতি অনিক চিরাণ প্রমুখ।

জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে গারো সম্প্রদায়ের ১২টি গোত্রের শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু এই ওয়ানগালা উৎসবে অংশগ্রহণ করে। এদিকে ওয়ানগালা উৎসব উপলক্ষে নকশী আলোঘর প্রকল্পের স্কুল মাঠের পাশে জমজমাট মেলা বসেছে। মেলায় গারোদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকসহ শিশুদের নানা রকমের খেলনা বিক্রি করা হয়।

এদিকে খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রভাবে গারোরা খ্রিস্টধর্মের অনুসারী হওয়ায় ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ওয়ানগালা উৎসবে প্রভু যিশুর নামেও শস্য উৎসর্গ করা হয়। আগামী ২৫ নভেম্বর ঝিনাইগাতীর মরিয়মনগর খ্রিস্টধর্মপল্লীতেও ওয়ানগালা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।



মন্তব্য