kalerkantho


ক্ষেতলালে কৃষকের সর্বনাশ ভেজাল বীজে

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ক্ষেতলালে কৃষকের সর্বনাশ ভেজাল বীজে

ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেড়া কমলগাড়ি গ্রামের নষ্ট করলাক্ষেত। ছবি : কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বাখেড়া কমলগাড়ি গ্রামের শতাধিক কৃষক প্রায় আড়াই শ বিঘা করলা চাষ  করে লোকসানে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, উচ্চ ফলনশীল বীজ কিনে তারা প্রতারিত হয়েছে। ভেজাল বীজের কারণে ফলন না হওয়ার পাশাপাশি গাছ লাল হয়ে মরে যাচ্ছে। এ বছর ৯০ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত-আট বছর ধরে ক্ষেতলালের বাখেড়া কমলগাড়ি গ্রামের শতাধিক কৃষক উচ্চ ফলনশীল জাতের করলা চাষ করে লাভবান হয়েছে। শুরু থেকেই তারা লাল তীর কম্পানির করলা বীজ কিনে ক্ষেতে চাষ করে আসছে। কিন্তু গত দুই বছর থেকে ক্ষেতে করলা চাষ করে লাভ করতে পারছে না কৃষকরা। গত বছর বীজ কিনে প্রতারিত হওয়ায় কৃষি বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে কম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ কৃষকের মধ্যে বিনা মূল্যে ১১ কেজি করলা বীজ সরবরাহ করেছে কিন্তু এবারও লাল তীর কম্পানির বীজ কিনে লোকসানে পড়েছে।

কৃষকরা জানায়, উচ্চ ফলনশীল জাতের করলা চাষ করলেও ভেজাল বীজের কারণে তাদের ওই জাতের করলা উৎপাদন হচ্ছে না। অধিকাংশ করলা ছোট ও বাঁকা এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই গাছের পাতা লাল হয়ে যাচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের করলা যেখানে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ২২০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে সেখানে  ক্ষেতে উৎপাদিত বাঁকা ও আকারে ছোট জাতের করলা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০০ টাকা মণ দরে। এবারও তারা লোকসানে পড়েছে।

বাখড়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন অভিযোগ করেন, পৌনে তিন লাখ টাকা খরচ করে এবার তিনি পৌনে পাঁচ বিঘা জমিতে লাল তীর কম্পানির উচ্চ ফলনশীল করলা চাষ করেছেন। কিন্তু ফলন আসার পর তিনি এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন। কিছু করলা ক্ষেতে ধরলেও সেগুলো উচ্চ ফলনশীল নয়, অন্য জাতের। অথচ আসল বীজ হলে এই ক্ষেত থেকে তাঁর সাত-আট লাখ টাকার করলা উৎপাদন হওয়ার কথা। একই অভিযোগ ওই গ্রামের কৃষক বেলাল ফকির, মফির উদ্দিন, ওবায়দুর রহমান, আজহারুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক এবং ছানোয়ার হোসেনের। তাঁরা বলেন,  ক্ষেতে যেসব করলা ধরেছে সেগুলোর গায়ে কাঁটা। আবার দাম ও ফলন দুটোই কম।

তবে বীজ নিয়ে কৃষকদের এমন অভিযোগ মানতে নারাজ লাল তীর বীজ কম্পানির বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘বাখেড়া কমলগাড়িসহ ক্ষেতলালের বিভিন্ন মাঠে আমাদের কম্পানির করলা বীজ কৃষকরা ব্যবহার করছে কয়েক বছর থেকে। এতে তারা লাভবানও হয়েছে। একই ফসল বারবার ফলালে উৎপাদনে ঘাটতি আসে। এ ছাড়া এবারের আবহাওয়াও ছিল অন্যান্য বারের চেয়ে উত্তপ্ত। এসব কারণে ফলনে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু ভেজাল বীজের কারণে যে এটা হচ্ছে কৃষকের এমন অভিযোগ সঠিক নয়।’ তিনি দাবি করেন, ‘সর্বোচ্চ মান নিয়ন্ত্রণ করে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর লাল তীর কম্পানির বীজ বাজারে বিপণন করার কারণে কৃষকদের কাছে সমাদৃত।

ক্ষেতলাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলেন, ‘কৃষকদের একই কম্পানির বীজ বারবার ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। যারা আমাদের পরামর্শ শুনেছে তারা উচ্চ ফলনশীল করলা চাষ করে লাভবান হয়েছে। আর যারা আমাদের পরামর্শ না মেনে একই কম্পানির বীজ বারবার ব্যবহার করেছে তারা লোকসানে পড়েছে।’



মন্তব্য