kalerkantho


বিশ্বনাথে এক রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতি

ফরিদপুরে ফিলিং স্টেশন থেকে ট্রাক চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও বিশ্বনাথ (সিলেট) প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বিশ্বনাথে এক রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতি

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পশ্চিম চান্দশির কাপন গ্রামে এক বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে মালামাল তছনছ করে ফেলে যায় ডাকাতদল। ছবিটি গতকাল সকালে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেটের বিশ্বনাথে একই রাতে দুই বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার পশ্চিম চান্দশির কাপন গ্রামে ছুবা মিয়ার (মৃত) বাড়িতে ও জাহারগাঁওয়ে রইছ খানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা বাড়ি দুটি থেকে স্বর্ণালংকার, টাকা ও মোবাইল ফোনসেট লুটে নিয়েছে।

ঘটনার সময় ডাকাতদের হামলায় ছুবা মিয়ার (মৃত) দ্বিতীয় স্ত্রী ছায়ারুন বেগম আহত হন। তাঁকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পুলিশ গতকাল শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের ধারণা, ছুবা মিয়ার (মৃত) বাড়িতে ডাকাতির সঙ্গে তাদের পরিচিত কেউ জড়িত।

ডাকাতির শিকার পরিবারগুলো জানায়, ছুবা মিয়া (মৃত) দুটি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর সন্তানরা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে। দ্বিতীয় স্ত্রী ছায়ারুন বাড়িতেই থাকেন। বাড়িতে একজন কেয়ারটেকার আছেন। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে একদল ডাকাত বাড়ির সামনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পরে অস্ত্রের মুখে ওই দুজনকে জিম্মি করে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, ৫৫ হাজার টাকা ও চারটি মোবাইল ফোনসেট লুটে নেয়। এ সময় তাদের হামলায় ছায়ারুন আহত হন।

এর আগে রাত ২টার দিকে একদল ডাকাত জাহারগাঁওয়ে ব্যবসায়ী রইছ খানের বাড়িতে হানা দেয়। তারা ওই বাড়ির লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তিন হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোনসেট নিয়ে যায়। রইছ একটি হত্যা মামলায় জেলহাজতে আছেন।

এ ব্যাপারে রইছের স্ত্রী রুপিয়া খানম অভিযোগ করেন, ‘‘ডাকাতরা যাওয়ার সময় আমাদের বলে, ‘তোমাদের বাড়িতে কিছু পাইনি। তবে কোনো চিৎকার দেবে না, আমাদের অন্য জায়গায় অপারেশন আছে। দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়। চিৎকার করলে তোমার ছেলেমেয়েকে মেরে ফেলব।’’’

বিশ্বনাথ থানার ওসি শামসুদ্দোহা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার অভিযানে পুলিশ তৎপর আছে।

অন্যদিকে ফরিদপুরে একটি ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ট্রাক চুরি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার ডোমরাকান্দি এলাকায় সানি ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে।

চুরি যাওয়া ওই ট্রাকের মালিক পূর্ব গঙ্গাবর্দী গ্রামের আব্দুল জব্বারের (মৃত) ছেলে মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলে আমি আমার হলুদ ও নীল রঙের বডির তিন টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্রাকটি সানি ফিলিং স্টেশনের ভেতরে রেখে আসি। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে গিয়ে ট্রাকটি পাইনি। এ ব্যাপারে ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বললেও তারা কোনো তথ্য জানাতে পারেনি। পরে বিভিন্ন জায়গায় ট্রাকটি খুঁজে না পেয়ে শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় জিডি করেছি।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ওসি এ এফ এম নাসিম বলেন, চুরি যাওয়া ট্রাকটি উদ্ধারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

 



মন্তব্য