kalerkantho


সাতক্ষীরা

ঋণের যন্ত্রণা সইতে না পেরে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন কাজী বেলাল হোসেন। এরপর স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের নামীয় জমিসহ বাড়ি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ছেলে সর্বশেষ সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখা থেকে ১৭ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ায় দুশ্চিন্তা কমছিল না তাঁর। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেলাল (৬২) বঁটি দিয়ে গলা কেটে আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের মেহেরুন প্লাজার সুমাইয়া বোরকা হাউসের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেনের ছেলে কাজী মারুফ হোসেন জানান, টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার হাবলাবিলপত্তা গ্রামে তাঁদের আদিনিবাস। ৪০ বছর আগে বস্ত্র ব্যবসায়ের জন্য সাতক্ষীরায় এসে পলাশপোলের মধুমোলারডাঙিতে বিয়ে করেন বেলাল। পরে স্ত্রীর নামে জমি কিনে সেখানে বাড়ি বানিয়ে সপরিবারে বাস শুরু করেন। তখন সাতক্ষীরা সদর সার্কেলের পাশে বেলালের একটি কাপড়ের দোকান ছিল।

২০১০ সালে মেহেরুন প্লাজায় মারুফ ও তাঁর ভাই ফারুকের ব্যবসার জন্য মায়ের নামীয় বাড়ি ও জমি বন্ধক রেখে ব্র্যাক ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখা থেকে ১৬ লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়। ছয় লাখ টাকা পরিশোধ হওয়ার পর ঋণটি ঢাকা ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। সাত মাস আগে ঢাকা ব্যাংক থেকে ঋণ বদলি করে সিটি ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখায় এনে মারুফের নামে ১৭ লাখ টাকা বর্ধিত করা হয়। বার্ধক্যজনিত কারণে বেলাল বিভিন্ন রোগে ভুগলেও সম্প্রতি কিছুটা হাঁটাচলা করতে পারতেন। তবে ঋণ নিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তার শেষ ছিল না। বৃহস্পতিবার বিকেলে মারুফ ও তাঁর ভাই দোকানে ছিলেন।

মামা ড. মহিদার রহমানের অসুস্থ বাচ্চাকে দেখতে যান মা। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বেলাল বঁটি দিয়ে গলা কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে তাঁরা বাবাকে ভ্যানে করে সাতক্ষীরা হার্ট ফাউন্ডেশন, বুশরা হাসপাতাল, সিবি হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কোথাও চিকিৎসা দিতে পারেননি। একপর্যায়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহাবুবর রহমান জানান, বেলাল হোসেনের খাদ্যনালি ও শ্বাসনালি কেটে গিয়েছিল। তাই তাঁকে খুলনা ৫০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হয়।

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় শুক্রবার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।



মন্তব্য