kalerkantho


নবীনগর

রাস্তা ছাড়া ১৪ কোটি টাকার সেতু

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



রাস্তা ছাড়া ১৪ কোটি টাকার সেতু

এক বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কৃষ্ণনগরে পাগলা নদীর ওপর প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় এই সেতু। কিন্তু দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি কাজে আসছে না। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রায় এক বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের কৃষ্ণনগরে পাগলা নদীর ওপর প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সংযোগ সড়ক না হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি এখন জনগণের কোনো কাজেই আসছে না। সেতুটি চালু হলে নবীনগরের তিনটি ইউনিয়নসহ সদর উপজেলার লাখো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পাগলা নদীর ওপর ১৮০ মিটার দীর্ঘ ওই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে। এতে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা। সেতুটির পুরোপুরি কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৭ সালের মে মাসে। পরে ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত নির্মাণকাজের সময় বাড়ানো হলেও সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক এখনো নির্মিত হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি জনগণের কোনো কাজেই আসছে না। সরকারের আরটিআইপি-২ প্রকল্পের অধীনে এ কাজটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তাদের অধীনে সেতুটি নির্মাণ করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হাসান এন্টারপ্রাইজ’।

ওই সেতু নির্মাণ করা ছিল এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। কারণ নবীনগরের উত্তরাঞ্চলের কৃষ্ণনগর, বড়াইল ও বীরগাঁও ইউনিয়ন এবং পাশের সদর উপজেলার অর্ধশত গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন একটি সড়ক ও একটি সেতুর অভাবে স্বাধীনতার পর থেকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল। তবে এর মধ্যে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বর্তমান সরকারের আমলে কৃষ্ণনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণঘাট পর্যন্ত পাকা সড়ক (পিচঢালা) নির্মাণের কাজ শেষ হলেও শুধু সংযোগ সড়কের অভাবে ওই সেতুটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে এলাকাবাসী এখনো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুর কৃষ্ণনগর পার থেকে জনপ্রতি ১০ টাকা দিয়ে নৌকায় করে ওপারে যাচ্ছে লোকজন। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে জেলা সদরে যাচ্ছে তারা।

শাহাবুদ্দিন মিয়া, কাজল মিয়া, খোকন মিয়াসহ একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, ‘এ অঞ্চলের লাখো মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ সরকারের সংসদ সদস্য বাদলের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় স্বাধীনতার পর এই এলাকায় আমরা ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সড়ক ও পাগলা নদীতে একটি বিশাল সেতু পেয়েছি। কিন্ত সড়কটি এক বছর আগে চালু হয়ে গেলেও শুধু সেতুটির দুই পারে সংযোগ সড়ক এখনো নির্মিত না হওয়ায় এলাকার জনগণের কষ্ট ও দুর্ভোগ এখনো লাঘব হয়নি।’

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসান এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ‘এরই মধ্যে জেলার সর্বোচ্চ ফোরাম মাসিক উন্নয়ন সভায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেতুটির দুই পাশে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের জোর দাবি করা হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই এটির সমাধান পাওয়া যাবে।’

তবে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটির দুই পারে জায়গা নিয়ে জটিলতা ছিল। সংসদ সদস্য মহোদয়ের প্রচেষ্টায় জটিলতা দূর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সম্প্রতি সেতুটি পরিদর্শন করে গেছেন। সেতুর পশ্চিম পারের কাজ শুরু হয়েছে। পূর্ব পারেও কাজ শুরু করে দ্রুত এর কাজ শেষ করা হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমান বাদল বলেন, ‘স্বাধীনতার পর এই প্রথম এ সরকারের আমলে প্রায় ২৬ কোটি টাকার সড়ক ও সেতুর কাজ শেষ হয়েছে এই এলাকায়। গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য এরই মধ্যে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী নির্বাচনের আগে সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ শেষে সেতুটি জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’

 

 



মন্তব্য