kalerkantho


ধুনট সেটলমেন্ট অফিস

১৯ পদের ১৪টিই শূন্য

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



বগুড়ার ধুনটে সেটলমেন্ট অফিসে জনবল সংকটের কারণে ৩৩ বছরেও ভূমি জরিপের কাজ শেষ হয়নি। স্থবির হয়ে পড়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। হয়রানির শিকার হচ্ছেন জমির মালিকরা। দীর্ঘদিন ধরে ১৯টি পদের মধ্যে প্রধান কর্মকর্তাসহ ১৪টি পদ শূন্য আছে।

সেটলমেন্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। বর্তমানে উপসহকারী সেটলমেন্ট কর্মকর্তা, দুজন জরিপকারী (সার্ভেয়র) ও দুজন শিকলবাহক (চেইনম্যান) কর্মরত। কিন্তু একজন সহকারী সেটলমেন্ট কর্মকর্তা (প্রধান কর্মকর্তা), একজন উপসহকারী সেটলমেন্ট কর্মকর্তা, একজন পেশকার, একজন ড্রাফটসম্যান, একজন রেকর্ডকিপার, দুজন যাচ মোহরার, দুজন কপিস্ট-কাম-বিসি, দুজন খারিজ সহকারী, একজন প্রসেস সার্ভেয়র, দুজন অফিস সহায়কের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য আছে।

জনবল সংকটের কারণে ১৯৮৫ সালে শুরু হওয়া ভূমি জরিপের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ধুনট সদর ও গোপালনগর ইউনিয়নের জরিপকাজ বন্ধ আছে। বিলবাইশা, পাঁচথুপি মৌজায় সরকারের করা প্রায় ২০০টি আপিল কেসের শুনানি করা হচ্ছে না। অন্য মৌজার আপত্তি ও আপিল কেসের নকল কপি ও সত্যায়িত খতিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না। রেকর্ডকিপার ও পেশকার না থাকায় ভূমি জরিপের চূড়ান্ত কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। চূড়ান্ত প্রিন্টের আগে জরিপ যথাযথ যাচাই-বাছাই করা যাচ মোহরার পদ শূন্যতায় খাদুলী ও গোসাইবাড়ী মৌজায় যাচ কাজ বন্ধ আছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন মৌজার ভূমি জরিপ, রেকর্ড, প্রিন্ট হস্তান্তরসহ সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে পুরনো ভূমি জরিপের রেকর্ড, প্রিন্ট পরচা ও ম্যাপ দিয়েই কাজ চলছে। পুরনো ওই জরিপের পর ধানি, ডাঙা, মাঠ, বিল, নদী-নালা, খাল, বিল, ব্যক্তিগত সম্পত্তি, সরকারি সম্পত্তি, শত্রু সম্পত্তিসহ বিভিন্ন ধরনের সম্পত্তিতে সময়ে সময়ে পরিবর্তন আসে। কিন্তু এখানে জরপিকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ভূমির ধরনে কোনো পরিবর্তন আসছে না।

এ বিষয়ে জোনাল সেটলমেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, জনবল সংকট দেশের সব উপজেলাতেই। সেটলমেন্ট অফিসের বিভিন্ন পদের ওপর দায়ের করা একাধিক মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এ দপ্তরের কোনো পদে জনবল নিয়োগ হচ্ছে না। ফলে দেশের অন্য স্থানের মতো ধুনটেও জনবল সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

 



মন্তব্য