kalerkantho


সংস্কারহীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯ ভবন

ঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

টাকার অভাবে ভবনগুলো সংস্কার করা যাচ্ছে না

রেদওয়ানুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আব্দুল লতিফ হলের তৃতীয় তলার ছাদ ও বেশ কয়েকটি পিলার থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে ইট-সুরকি ও রড বেরিয়ে গেছে। রডগুলোর বিভিন্ন অংশে মরিচা ধরেছে। ফাটল ধরেছে সিঁড়িগুলোতে। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ভবনটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে শিক্ষার্থীরা। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

শুধু নবাব আব্দুল লতিফ হলই নয়, আরো তিনটি আবাসিক হলসহ ১৯টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল দপ্তর। তারা বলছে, টাকার অভাবে ভবনগুলো সংস্কার করা যাচ্ছে না।

জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ প্রতিনিধিদল ১৯৯২ সালে হলটি পরিদর্শন করে এবং দ্রুত সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বর্তমান হল প্রশাসন ও প্রকৌশল দপ্তর জানায়, তারা এ বিষয়ে অবহিত নয়।

প্রকৌশল দপ্তরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভবনের সংস্কারকাজের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে একটি বাজেট পাঠাতে বলা হয়েছে বলে উপাচার্য জানিয়েছেন। তবে প্রকৌশল দপ্তরের সূত্র বলছে, তারা  কোনো নির্দেশনা পায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবাব আব্দুল লতিফ হলের পূর্ব পাশের ছাদ, মাদার বখশ হলের দক্ষিণ ব্লক, সৈয়দ আমীর আলী হলের পশ্চিম ব্লক, শাহ মখদুম হল, প্রশাসন ভবন-১, রবীন্দ্র ভবন, প্রথম বিজ্ঞান ভবন, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত কোয়ার্টারের ৬৪, ৬৬, পূর্ব-৯, ৩৬, ৩৭, ৪১ থেকে ৪৪, পশ্চিম-৫২, ৫৩(এফ) ও ৫৪(এফ) ভবনগুলো গত বছর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। চারটি আবাসিক হলের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী থাকে। তিন তলাবিশিষ্ট কোয়ার্টারের বাসাগুলোতে আট থেকে বারোটি করে পরিবার থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কিছু বাসার অবস্থা অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলোর তৃতীয় ও দ্বিতীয় তলায় কেউ না থাকলেও নিচতলায় কয়েকটি পরিবার থাকে। ৪৪ নম্বর বাসার পেছনের দেয়ালের ওপরের অংশে পাকুড়গাছ বেড়ে উঠেছে।

৪১ নম্বর বাসার তৃতীয় তলার বাসিন্দা নীরধ কুমার বলেন, ‘সামান্য ঝড়েই মনে হয় ছাদ এখন ভেঙে পড়বে। বৃষ্টি এলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়া তো নিত্যদিনের ঘটনা।’

নবাব আব্দুল লতিফ হলের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল গাফফার জানান, হলের বিভিন্ন জায়গায় পলেস্তারা উঠে রড বেরিয়ে গেছে। রডগুলোতে মরিচা ধরেছে। এ বিষয়ে একাধিকবার লিখিতভাবে প্রকৌশল দপ্তরকে জানানো হয়েছে। অন্য তিনটি হলের কর্তৃপক্ষও একই কথা বলেছে।

প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভবনগুলোর ঝুঁকির প্রধান কারণ হলো ওপরের ছাদ। দীর্ঘদিন সংস্কার ও নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ছাদগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। ছাদ ভেঙে নতুন ছাদ করা প্রয়োজন। দ্রুত সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় ছোটখাটো ভূমিকম্পেই প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সম্পূর্ণ কাজের জন্য কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র চার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে তাদের। ফলে কাজ শুরু করা যায়নি।

নাম না প্রকাশের শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘আবাসিক ভবনগুলোর অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ। কয়েক দিন আগে আমার বাসার ভেতর ছাদের একটি অংশ থেকে প্লাস্টার খসে পড়ে। সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হয়নি। আমরা ঝুঁকি নিয়ে বাস করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান জানান, প্রায় এক বছর আগে ভবনগুলো সংস্কারের জন্য টাকা চেয়ে তাঁরা ইউজিসির কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু ইউজিসি তা গ্রহণ করেনি। পরে এ বিষয়ে তাঁদের আর কিছু জানানো হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক প্রধান প্রকৌশলী অধ্যাপক সিরাজুম মুনির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংকটের ফলে আমরা ভবনগুলো সংস্কারকাজ করতে পারিনি।’

উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, ‘সার্বিক সংস্কারকাজের জন্য প্রকৌশল দপ্তরকে একটি বাজেট তৈরি করে ইউজিসিতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি। যত শিগগিরই সম্ভব কাজ শুরু হবে।’

 



মন্তব্য