kalerkantho


নীলফামারীতে মণ্ডপে বরাদ্দের চালে দুর্নীতি

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজায় সরকারি বরাদ্দের চাল উত্তোলনে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১৪৯টি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে জিআর চাল উত্তোলনে এক হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ মতে, কিশোরগঞ্জে এবার শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৪৯টি মণ্ডপে। পূজা উদ্যাপনে প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে জিআর চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। চাল প্রতিটি মণ্ডপের নামে সরবরাহ আদেশ দেওয়া হলেও সে চাল উত্তোলনে মণ্ডপপ্রতি এক হাজার করে মোট এক লাখ ৫৯ হাজার টাকা আদায় করেছেন উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা।

উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের সেনপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি অনিল সেন বলেন, উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের এক সভায় সরকারি ওই বরাদ্দের চাল বিক্রি করার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মতে, প্রতি কেজি চাল ২০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের ৫০০ কেজি চালের মূল্য হয় ১০ হাজার টাকা। সেখানে উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি বিপ্লব সরকার ও সাধারণ সম্পাদক ফণিভূষণ মজুমদার প্রতিটি মণ্ডপের এক হাজার করে কেটে রেখে ৯ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। আবার কেউ ওই চাল নিলে তাদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নিয়েছেন তাঁরা।

বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর বটতলা সর্বজনীন দুর্গামণ্ডপের সভাপতি সুকুমার রায় বলেন, ‘আমরা টাকা কম দেওয়ার বিষয়টি জানতে চেয়েছিলাম সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের কাছে। তাঁরা জানিয়েছেন, ওই টাকা শ্রীকৃষ্ণের জম্মাষ্টমীতে ও দুর্গাপূজা উদ্যাপনের জন্য চারটি সভা করতে খরচ হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের এক হাজার করে টাকা দিয়ে ওই খরচ মেটানো হয়েছে।’

উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফণিভূষণ মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পূজা উদ্যাপনের জন্য পর পর চারটি সভা করতে হয়েছে। সেখানে আপ্যায়ন বাবদ কিছু খরচ হয়েছে। এ ছাড়া পরিষদের উদ্যোগে শ্রীকৃষ্ণের জম্মাষ্টমী উদ্যাপনেও বেশ কিছু খরচ হয়েছিল। এসব ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতিটি মণ্ডপ স্বেচ্ছায় ৫০০ থেকে ৭০০ করে টাকা দিয়েছে। এক হাজার করে টাকা আদায়ের বিষয়টি সঠিক নয়।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘উপজেলায় ১৫৩টি মণ্ডপের জন্য ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ পেয়েছি। চারটি মণ্ডপ পূজা করবে না বলে জানিয়েছে। এ জন্য ১৪৯টি মণ্ডপের নামে ৫০০ কেজি করে চালের আলাদা ডিও করে মন্দির কমিটির সংশ্লিষ্টদের হাতে বুঝিয়ে দিয়েছি। এখানে পূজা উদ্যাপন পরিষদ কোনোভাবে যুক্ত নয়। এখন তারা চাল উত্তোলন করে প্রসাদ বানাবে, না বিক্রি করে কাজে লাগাবে—সেটি তাদের ব্যাপার। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই।’

জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি অক্ষয় কুমার রায় বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন যেহেতু শুনলাম, খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেব।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ টি এম আখতারুজ্জামান জানান, এবারে জেলায় ৮৫৭ দুর্গামণ্ডপে পূজা উদ্যাপনের জন্য সরকারের ৪২৮ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ডোমারে ৪৭ মেট্রিক টন, ডিমলায় ৩৮ মেট্রিক টন, জলঢাকায় ৮৪ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন, কিশোরগঞ্জে ৭৬ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন, সৈয়দপুরে ৪৩ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন ও নীলফামারী সদরে ১৩৯ মেট্রিক টন। এতে প্রতিটি মণ্ডপ ৫০০ কেজি করে চাল পাবে। ওই চাল এরই মধ্যে সব মণ্ডপের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে।



মন্তব্য